—প্রতীকী চিত্র।
এ বার হাকিমপুরেও চালু হল আটক-শিবির (হোল্ডিং সেন্টার)। মঙ্গলবারের পরে, বুধবারেও উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুরে সীমান্ত পেরোতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় থাকায়, তাঁদের রাখার জন্য তিনটি শিবির তৈরি হয়েছে। মেদিয়ার একটি সরকারি স্কুল, তেঁতুলিয়ায় পথের সাথী এবং চারঘাট এলাকার একটি ‘ফ্লাড সেন্টার’-এ বাংলাদেশিদের পাঠিয়েছে প্রশাসন। তিনটি শিবিরে ২২০-র বেশি বাংলাদেশির ঠাঁই হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, শিবিরে যাঁদের রাখা হয়েছে, তাঁদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। কাগজপত্র খতিয়ে দেখে, আইন মেনে দৈনিক গড়ে ৭০-৮০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি)-এর সঙ্গে আলোচনা করে এই প্রক্রিয়া চলছে। এ দিন হাকিমপুরের ভিড়ে হাজির বাংলাদেশের সাতক্ষীরার বাসিন্দা বছর পঁয়ত্রিশের হৃদয় মোল্লা বলেন, “ছোটবেলায় মা-বাবার সঙ্গে এ দেশে এসেছিলাম। এখন সপরিবার ফিরে যাচ্ছি। এ দেশের কোনও বৈধ নথি আমাদের নেই। যা আছে, বাংলাদেশের।’’ উত্তর ২৪ পরগনা দুর্গানগরে রংমিস্ত্রির কাজ করতেন সাতক্ষীরারই আক্তারুল মণ্ডল। তাঁর দাবি, “কাজের খোঁজে তিন বছর আগে দালালকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে এ দেশে ঢুকেছিলাম। এ রাজ্যের সরকার এখন কড়াকড়ি করছে। আটক-শিবিরে থাকার বদলে দেশে ফিরতে চাই।”
বনগাঁর পেট্রাপোলেও বুধবার থেকে আটক-শিবির তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সে জন্য সীমান্ত এলাকার পুরনো একটি সরকারি ভবন সংস্কারের কাজ চলছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পুলিশ-জেলার আটক শিবির তৈরি হচ্ছে ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার ঝোড়োর মোড়েরকাছে কর্মতীর্থে।
মুর্শিদাবাদের একমাত্র অস্থায়ী আটক-শিবির চলছে লালগোলায়। সেখানে বুধবার রাত পর্যন্ত ২৪ জনকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে রাখা হয়েছে। খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থার দায়িত্বে আছেন লালগোলার বিডিও। নিরাপত্তার দায়িত্বে সব সময় এক জন সাব-ইনস্পেক্টর বা অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর, চার জন কনস্টেবল থাকছেন। দু’জন সিভিককেও রাখা হয়েছে। দুপুরে আসছেনসরকারি চিকিৎসক।
এই পরিস্থিতিতে আটক-শিবির নিয়ে মতুয়া উদ্বাস্তুদের আশঙ্কা দূর করার চেষ্টা করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। এ দিন বনগাঁয় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে যাঁরা এসেছেন, সেই হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের জন্য আটক-শিবির নয়। তাঁদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আটক-শিবির অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে