—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
জরুরি বিভাগে সময়ে চিকিৎসা না হওয়ায় সর্পদষ্ট এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে, এই অভিযোগে শনিবার রাতে একপ্রস্থ বিক্ষোভ হয়েছিল। রবিবার সকালে ফের বিক্ষোভে উত্তাল হল আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ঘটনার তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের শাস্তির দাবি ওঠে। গাফিলতির অভিযোগ মানেননি চিকিৎসকেরা। তবে, অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে ময়না-তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ রায়।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রের খবর, মৃত তমসী পালের (১৬) বাড়ি আরামবাগের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাদলকোণায়। সে আরামবাগের একটি সিবিএসই স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ত। তার প্রথম সিমেস্টারের পরীক্ষা চলছিল। শনিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ দিদির সঙ্গে বাইরে থেকে ফিরে বাড়ির কলিং বেল বাজানোর সময় তমসীর বাঁ পায়ে সাপে ছোবল মারে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে আনা হয়।
মৃতের বাবা অচিন্ত্যকুমার পালের অভিযোগ, মেয়েকে সাপে কাটার কথা জানানোর পরেও জরুরি বিভাগের তিন চিকিৎসক গুরুত্ব দেননি। ওষুধও দেওয়া হয়নি। মৃতার দিদি তিয়াসা বলেন, ‘‘স্রেফ চিকিৎসকদের অবহেলার জন্য বোনের মৃত্যু হল।’’
রাতেই মৃতের পরিবারের লোকজন ও পড়শিরা হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখান। রবিবার সকাল থেকে ফের তা শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের জবাবদিহি চান। এক চিকিৎসক হাতজোড় করে ক্ষমপ্রার্থানা করলেও দাবি করেন, চিকিৎসায় গাফিলতি হয়নি। ওই চিকিৎসকে ধাক্কাধাক্কির উপক্রম হলে মৃতের বাবা ও দিদি বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে তাঁরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার অভিযোগ দায়ের করেন। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবিও জানানো হয়।
চিকিৎসকদের দাবি, জরুরি বিভাগে আনার পর থেকে ওই কিশোরীর রক্তচাপ, শ্বাসপ্রশ্বাস অস্বাভাবিক ছিল। সম্ভবত নিজে বিষধর সাপকে দংশন করতে দেখায় মানসিক আঘাত (শক) কাটাতে পারেনি। জরুরি বিভাগে আনার ১০-২০ মিনিটের মধ্যে তার রক্ত পরীক্ষা করে শেষ পর্যবেক্ষণে (এসডিইউ) রেখে বাঁচানোর যাবতীয় চেষ্টা করা হয়।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে