West Bengal Elections 2026

বোমা-গুলির শব্দ নেই, ভোটে স্বস্তি

বোমাগুলির লড়াই, রক্তপাত ও ছাপ্পা ভোট হওয়াই রীতি আরামবাগ মহকুমার চার কেন্দ্রে।

পীযূষ নন্দী

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:১৬
Share:

পুলিশের টহল আরামবাগের সাতমাসা এলাকায়। নিজস্ব চিত্র ।

ভোট হল। অথচ, একটি বোমাও পড়েনি, গুলিও চলেনি।

ছবিটা মেলাতে পারছেন না নির্বাচনের দিনে রাজনৈতিক হানাহানি দেখতে অভ্যস্ত আরামবাগ মহকুমার বাসিন্দারা। বুধবার বিধানসভা নির্বাচন মিটলে স্বস্তির পাশাপাশি বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

আরামবাগের আরান্ডি গ্রামের বৃদ্ধ অশোক ভূরিশ্রেষ্ঠের ভোটকেন্দ্র ছিল আরান্ডি সাউথ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, “অভূতপূর্ব নিরাপত্তা। কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ ও নির্বাচনী আধিকারিকেরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করাতেই এই প্রথম শান্তিপূর্ণ ভোট দেখলাম।’’ একই কথা জানিয়েছেন ওই স্কুলের ২৬৫-এ বুথের ভোটার, মহল্লাপাড়ার তাইবুল হোসেন-সহ অনেকে। পুলিশও মানছে, এ বার ভোটে বোমাবাজি, গুলি চলার অভিযোগ দায়ের হয়নি।

বোমাগুলির লড়াই, রক্তপাত ও ছাপ্পা ভোট হওয়াই রীতি আরামবাগ মহকুমার চার কেন্দ্রে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মহল্লাপাড়ার তৃণমূল সমর্থকদের সঙ্গে সাঁতরাপাড়ার ভোটারদের সংঘর্ষ ও বোমাবাজি হয়। মহল্লাপাড়ার ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। তৎকালীন তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা মণ্ডল ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে বাঁশ নিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পাশেই মিরপাড়ায় প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর হয়। সে সময় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও মহকুমা উত্তপ্ত হয়েছে। নানা জায়গায় সংঘর্ষে জড়িয়েছিল বিজেপি-তৃণমূল।

এ বার বুথ চত্বর তো দূর, বুথের ২০০ মিটারের মধ্যে চার জনকে একসঙ্গে দেখলেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা সরিয়ে দিয়েছেন বলে অনেকে জানিয়েছেন। প্রায় প্রতিটি বুথের ১০০ মিটারের গণ্ডিতে দেখা গিয়েছে, বাহিনীর একাধিক জওয়ানের মধ্যে একজন মুখে বাঁশি নিয়ে লোক সরাচ্ছেন। ভোটকেন্দ্রের কাছে অলি-গলিতেও টহল দিয়েছে তারা। বাড়ির ছাদে কোনও জমায়েতও রোত করা হয়নি।

অশান্তি বলতে খানাকুলের রামচন্দ্রপুরে ১৪৭ এবং ১৪৭-এ বুথে তাঁদের দুই পোলিং এজেন্টের ফর্ম নকল করে তৃণমূল এজেন্ট দেয় বলে অভিযোগ তোলেন আইএসএফ প্রার্থী শেখ সাদ্দাম হোসেন। তিনি কমিশনের কাছে নালিশ জানিয়ে তাঁদের বুথ থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তাতে বুথের বাইরে দু’পক্ষের হাতাহাতি হয়। খানাকুলেরই কামদেবপুরে আইএসএফ প্রার্থীর আপ্ত সহায়ককে মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে আইএসএফ প্রার্থী দলবল নিয়ে থানায় বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগ মানেনি বিজেপি।

সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের একটা অংশ ভাল ভোট পরিচালনা করেছে।’’ বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য বিমান ঘোষ বলেন, ‘‘কমিশন নিজেদের কাজে সফল।’’ তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী বলেন, "ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি সক্রিয়তায় অন্যায় ভাবে অনেককে মার খেতে হয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন