Uluberia

নালা সাফ হয়নি, বর্ষায় শহরে জল জমার শঙ্কা

দিন পনেরো আগে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভার পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বর্ষা মোকাবিলা নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ০৭:৩২
Share:

উলুবেড়িয়া পুরসভা।

বর্ষা এসে গিয়েছে। কিন্তু এ বার এখনও শহরের নিকাশি নালা সাফ করে উঠতে পারল না উলুবেড়িয়া পুরসভা। বস্তুত, কী ভাবে তা করা যাবে, এটাই এখন মূল চিন্তা পুর কর্তৃপক্ষের। তাঁরা কারণ হিসেবে দুষছেন অর্থাভাবকে।

পুরসভার ৩২টি ওয়ার্ডে নিকাশি নালার সংখ্যা কম নয়। সেগুলি বর্ষার আগে সাফ করাই রীতি। কিন্তু এ জন্য যে টাকা প্রয়োজন তা পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর দেয়নি বলে জানিয়েছেন উপ-পুরপ্রধান ইনামুর রহমান। তিনি বলেন, ‘‘নতুন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভাগুলিকে আপাতত টাকা দেওয়া হবে না। শুধু তা-ই নয়, নতুন কোনও দরপত্র ডাকতেও বারণ করা হয়েছে। কিন্তু নিকাশি নালা সাফ করতে হলে দরপত্র ডেকে ঠিকাদারদের মাধ্যমে করতে হয়। এখন আমাদের হাত-পা বাঁধা।’’

দিন পনেরো আগে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভার পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বর্ষা মোকাবিলা নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। পুরসভার এক পদস্থ আধিকারিক জানান, সেই বৈঠকে মন্ত্রী পুরসভাকে বিপর্যয় মোকাবিলা দল গঠন করার নির্দেশ দেন। কিন্তু কী ভাবে কাজ হবে, তাঁরা ভেবে পাচ্ছেন না।

পুরকর্তাদের বড় অংশের আশঙ্কা, অবিলম্বে নিকাশি নালা সাফ করার কাজ শুরু না হলে শহরকে বর্ষার সময় ভেসে যাওয়া থেকে রক্ষা করা মুশকিল হবে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, পুরসভাগুলিকে টাকা না দেওয়া বা দরপত্র না ডাকতে বলা সরকারি সিদ্ধান্ত। সরকার অনুমতি দিলেই টাকা দিয়ে দেওয়া হবে।

উলুবেড়িয়া শহরের নিকাশি নালাগুলিতে সারা বছর ধরে অনেকে প্লাস্টিক ও বর্জ্যু ফেলেন। তার ফলে নালাগুলি বুজে যায়। পুরসভার দাবি, প্রতি বছর বর্ষা পড়ার মাসখানেক আগেই নালাগুলি সাফ করা হয়। এ বছর নির্বাচন পড়ে যাওয়ায় সে কাজটি আর হয়নি।

সমস্যা প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ২০, ২১, ২২, ২৬, ২৭, ২৮, ২১, ৫, ৬, ৭, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে, যার মধ্যে আছে উলুবেড়িয়া শহর, বাউড়িয়া এবং চেঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। কিছুদিন আগে প্রবল বৃষ্টিতে বহু এলাকায় জল জমে যায়। সাফাইকর্মীদের দিয়ে সেই জল কোনও মতে সরানো হয় বলে পুরসভা সূত্রের খবর।

গ্রামীণ হাওড়ার বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘অর্থাভাব তৃণমূলের একটা অজুহাত। আসলে জনরোষের ভয়ে পুরসভায় তৃণমূলের দূর্নীতিগ্রস্ত পদাধিকারী, কাউন্সিলাররা মাঠে নেমে কাজ করতে পারছেন না। আমরা চাই, সুষ্ঠু নাগরিক পরিষেবার স্বার্থে পুরসভার পদাধিকারীরা পুরসভায় আসুন। আমরাও যাব। দরকার হলে সবাই মিলে মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব। টাকা কোনও সমস্যা হবে না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন