— প্রতীকী চিত্র।
দিল্লিতে গিয়ে এ বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতে যোগ দেবে হাওড়ায় মৃত দু’জনের পরিবার। তারা দাবি করেছিল, এসআইআর ‘আতঙ্কেই’ প্রাণ গিয়েছিল জাহির মাল এবং শেখ জামাত আলির। এ বার উলুবেড়িয়া এবং আমতায় মৃত দুই ব্যক্তির পরিবার দিল্লিতে গিয়ে বিচার চাইবেন বলে জানিয়েছেন।
উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের মালপাড়ার জাহির আত্মহত্যা করেছিলেন। পরিবার দাবি করেছিল, এসআইআরের ‘আতঙ্কে’ চরম পদক্ষেপ করেছেন তিনি। তাঁর স্ত্রী রেজিনা মাল জানান, তাঁর স্বামী মোবাইলে খবর পড়তেন। ‘এসআইআর আতঙ্কে’ আত্মঘাতী হন তিনি। তাঁর সংসারে রয়েছেন পুত্র-কন্যা এবং শ্বশুর-শাশুড়ি। রেজিনা জানিয়েছেন, তাঁর সংসার জলে পড়েছে। তাই এর বিচার চাইতেই তারা মমতার নেতৃত্বে দিল্লি যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, ‘‘একটাই উদ্দেশ্য, বিচার চাই।’’
আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের সাবসিট অঞ্চলের শেখ জামাতের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়৷ পরিবারের দাবি, এসআইআর ‘আতঙ্কেই’ ওই পরিণতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওই দুই পরিবারের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি রওনা দিচ্ছেন হাওড়া জেলা গ্রামীণ তৃণমূলের নেতারা।
এসআইআর সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সর্বভারতীয় স্তরে প্রতিবাদ জানাতে বুধবারই দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল মমতার। দুপুরে হুগলির সিঙ্গুরে জনসভা করেছেন তিনি। তার পরেই রাজধানীর উদ্দেশে তাঁর রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের। সেই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেন মমতা। তার পরেই নবান্ন থেকে তাঁর দিল্লিযাত্রা স্থগিত করার কথা জানানো হয়। কারণ, হিসাবে পরে আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সিঙ্গুর থেকে তিনি জানিয়েছিলেন, দু’এক দিনের মধ্যেই দিল্লি যাবেন। এর পর বুধবার বিকেলে কমিশন তাঁর দলকে সময় দেয়। ২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার বিকেল ৪টে নাগাদ তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে যেতে বলা হয়েছে। সোমবারই মমতা দিল্লিতে যাবেন বলে খবর নবান্ন সূত্রে। তাঁর সঙ্গে থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ কয়েক জন সাংসদ। এ ছাড়া, ‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃতদের পরিবারের কয়েক জন সদস্য তৃণমূলের প্রতিনিধিদলে থাকতে পারেন। সেই তালিকায় রয়েছে হাওড়ার দুই পরিবার।