Sakir Ali Arrested By NIA

রামনবমীকাণ্ডে তৃণমূল কাউন্সিলর ধৃত, গ্রেফতারি নিয়ে বলতে যেতেই ছেলের মুখ চাপলেন প্রাক্তন সাংসদ অপরূপা

দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত অপরূপাদের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এনআইএ। স্বামী শাকির আলিকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময়েও বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন অপরূপা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ১৮:৩৮
Share:

(বাঁ দিকে) তৃণমূল কাউন্সিলর শাকির আলি গ্রেফতার! ছেলের মুখে হাত চাপা দিলেন শাকিরের স্ত্রী, প্রাক্তন সাংসদ অপরূপা পোদ্দার (ডান দিকে)। —নিজস্ব চিত্র।

স্ত্রী দু’বারের সাংসদ। স্বামী এখনও কাউন্সিলর। সেই বাড়িতে এনআইএ অভিযানের খবরে দুপুর থেকে উত্তেজনা বাড়ছিল হুগলির রিষড়ার ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। মঙ্গলবার বিকেলে যখন তৃণমূল কাউন্সিলর শাকির আলিকে বাড়ি থেকে বার করে গাড়িতে তুলছেন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা, তখন শাকির বিধ্বস্ত। তবে জোর করে মুখে হাসি এনে হাত নাড়লেন সামনের ভিড়ের দিকে। তার মধ্যে বাবার গ্রেফতারির প্রতিবাদ করে কিছু বলতে যাচ্ছিলেন শাকিরের তরুণ পুত্র। তৎক্ষণাৎ তাঁর মুখে হাত চাপা দিলেন মা অপরূপা পোদ্দার। ছেলেকে প্রায় টানতে টানতে ঘরে নিয়ে যেতে যেতে আরামবাগের প্রাক্তন সাংসদ বললেন, ‘‘ভগবান এর বিচার করবেন।’’

Advertisement

তার আগে অবশ্য অপরূপার সঙ্গেও পুলিশের কথা কাটাকাটি হয়েছে। স্বামীর গ্রেফতারিতে ভেঙে পড়লেও বাড়ির সামনে বিক্ষোভ সামলাতে নেমেছেন নিজে। অনুগামীরা যাতে আবেগের বশে কিছু না-করে ফেলেন, তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করেছেন।

২০২৩ সালের ২ এপ্রিল রামনবমীতে অশান্তির ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল তৎকালীন সাংসদ অপরূপার স্বামী কাউন্সিলর শাকিরের। তিন বছর পর মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ অপরূপাদের রিষড়ার গাঁধী সড়কের পাশে বাড়িতে চার ভ্যান সিআরপিএফ নিয়ে হাজির হন এনআইএ-র আধিকারিকেরা। কিছু ক্ষণ পরেই জানা যায়, এনআইএ গ্রেফতার করেছে প্রাক্তন সাংসদের কাউন্সিলর স্বামীকে। কিন্তু তখনই ধৃত শাকিরকে নিয়ে বেরিয়ে যাননি তদন্তকারীরা।

Advertisement

এর মধ্যে কাউন্সিলরের গ্রেফতারির খবর চাউর হয়ে গিয়েছে গোটা ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। ভিড় জমছিল শাকির-অপরূপাদের বাড়ির সামনে। অনেক মহিলা জোর গলায় বলতে থাকেন, শাকিরকে কেউ নিয়ে যেতে পারবেন না। তিনি এলাকার ভগবান। তিনি কোনও খারাপ কাজ করতেই পারেন না। কেউ জানান, কাউন্সিলরের জন্য তিনি মাথার উপর ছাদ পেয়েছেন। হুড়োহুড়ি, স্লোগানের মধ্যে শেষমেশ বিকেলে শাকিরকে বাড়ি থেকে বার করেন গোয়েন্দারা। প্রায় ভিড় ঠেলে তাঁরা এগোন গাড়ির দিকে। সামনের ভিড়ের দিকে হাতজোড় করেন কাউন্সিলর। আবার শাকিরের গ্রেফতারির প্রতিবাদে স্লোগান ওঠে। কয়েক মিনিটে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে রিষড়া থানার বিশাল পুলিশবাহিনী আসে। ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীও। এনআইএর ছয় জন আধিকারিক-সহ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ঘেরাটোপে গাড়িতে ওঠেন কাউন্সিলর। আস্তে আস্তে ভিড় হালকা করে এগিয়ে যায় গাড়ি।

দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত অপরূপাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে এনআইএ। স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাড়িতেই ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ। স্বামীকে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনিও বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু সংবাদমাধ্যমকে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। এর মধ্যে শাকির-অপরূপার পুত্র বেরিয়ে আসেন বাড়ি থেকে। তিনি বাবার গ্রেফতারির প্রতিবাদে কিছু কথা বলতে যান। কিন্তু ‘বিজেপি সরকার’— এই দুটো শব্দ উচ্চারণ করতেই তাঁর মুখে হাত চাপা দেন মা। অপরূপা ছেলেকে প্রায় টেনে সরিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। ঘরে ঢুকে যাওয়ার আগে প্রাক্তন সাংসদের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘‘ভগবান এবং বিচার ব্যবস্থার উপর পূর্ণ ভরসা রয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement