Fire Prevention

টনক নড়াল নাজিরাবাদ, গঙ্গাতীরের জতুগৃহে পরিদর্শন হবে হাওড়ায়

উত্তর হাওড়ার বজরংবলী লোহা বাজার বা ঘুসুড়ি এলাকায় যে সমস্ত কারখানা ও গুদাম রয়েছে, গত এক দশকে সেগুলির বেশকয়েকটিতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

দেবাশিস দাশ

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৩৭
Share:

উত্তর হাওড়ার গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ডাঁই করে রাখা প্লাস্টিকের বস্তা। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরে এ বার টনক নড়ল হাওড়ার দমকল দফতরের। উত্তর হাওড়ারবজরংবলী লোহা বাজার থেকে বাঁধাঘাট পর্যন্ত গঙ্গার ধার বরাবর রয়েছে তুলো, ছাঁট কাপড়ের কারখানা ও প্লাস্টিকের বস্তার মতো দাহ্য বস্তুর ছোট-বড় অজস্র গুদাম। সেই সব কারখানাও গুদামের অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে এ বার থেকে নিয়মিত নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাওড়া দমকল দফতর। এ জন্য চলতি সপ্তাহ থেকেই কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে ওই সমস্ত কারখানা ও গুদামে হানা দেবেন দমকল দফতরের অফিসারেরা। নিয়মিত ফায়ার অডিটও করা হবে।

উত্তর হাওড়ার বজরংবলী লোহা বাজার বা ঘুসুড়ি এলাকায় যে সমস্ত কারখানা ও গুদাম রয়েছে, গত এক দশকে সেগুলির বেশকয়েকটিতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগুন ঠেকাতে যে সব ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তার প্রায় কিছুই সেখানে নেই। তাইছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড সেখানে প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। বড় আগুনও লাগে মাঝেমধ্যে। তাই আতঙ্কে থাকেন বাসিন্দারা। অভিযোগ, সব জেনেও জেলা প্রশাসন বা দমকলেরপক্ষ থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

ওই এলাকার দীর্ঘ দিনের বাসিন্দা সোহম সিংহ বললেন, ‘‘জে এন মুখার্জি রোডের আশপাশে যেমন পুরনো আট-দশটি গুদাম আছে, তেমনই গঙ্গার ধারেবিভিন্ন বাড়ির মধ্যে ছোট ছোট কারখানা ও গুদামঘর গজিয়ে উঠেছে। ওই সব গুদাম ও কারখানায় রাতে বহু মানুষ ঘুমোন। সেখানে আগুন লাগলে নাজিরাবাদের থেকেও ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে।’’প্রায় একই অবস্থা হাওড়ার দিকে গঙ্গার ধার বরাবর কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। সেখানে সরু গলির মধ্যে গা-ঘেঁষাঘেঁষি করে গড়ে উঠেছে একের পর এক বহুতল।সেই সব বহুতলের পাশেই এক-একটি ঝুপড়ি ঘর প্লাস্টিকের বস্তা ও অন্যান্য জিনিসপত্রে ঠাসা। ১০০ বর্গফুটের ঘরে একটিই দরজা, একটিইজানলা। আগুন লাগলে বেরোনোর পথ নেই।

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই সব কারখানাও গুদামে প্রায়ই আগুন লাগে। সেখানে না আছে অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা, না আছে পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স। অভিযোগ, পুলিশের একাংশ এবং এক শ্রেণির নেতা এই সব জতুগৃহ থেকে নিয়মিত টাকা পান। তাই সেগুলি বছরের পর বছরএকই রকম বিপজ্জনক অবস্থায় কাজ চালিয়ে যায়।

ঘুসুড়ি এলাকার একটি পুরনো মুদির দোকানের মালিক নটবরলাল গুপ্ত বললেন, ‘‘গোটা এলাকাই হয়ে আছে জতুগৃহ। বড়সড় আগুন লাগলে বহু মানুষের ক্ষতি হবে। আমরা পুরসভা ওপুলিশকে বার বার জানালেও কোনও ফল হয়নি। প্রতিদিন আতঙ্কে কাটাই।’’এ বিষয়ে দমকল দফতরের বক্তব্য, যে সমস্ত কারখানা ও গুদামের মালিক ফায়ার অডিট করান না, দমকলের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রায়ই নোটিসপাঠানো হয়। বড় রাস্তার আশপাশের কারখানা ও গুদামে দমকলের লোকজন পৌঁছতে পারলেও গলি বা তস্য গলির মধ্যে কোথায় কে বাড়ি বা ঝুপড়ির মধ্যে দাহ্য বস্তু মজুত রেখেছে, তা খুঁজে বার করা সম্ভব হয় না। তবে, নাজিরাবাদের ঘটনার পরে এ বার দমকলের পক্ষ থেকে কয়েকটি দল তৈরি করে ওই সব কারখানা, গুদাম খুঁজে বার করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

হাওড়ার ডিভিশনাল ফায়ার অফিসার রঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘‘নাজিরাবাদের ঘটনার পরেআমরা বিশেষ ভাবে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে, মানুষ এখন আগের থেকে অনেকটা বেশি সতর্ক। অনেকেই অগ্নি-নির্বাপণব্যবস্থা রাখতে শুরু করেছেন। যাঁরা রাখছেন না, তাঁদের নোটিস দেওয়া হচ্ছে। আমরা এ বার অফিসার-কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন দল তৈরি করে মানুষকে অগ্নি-নিরাপত্তারবিষয়ে সচেতন করব এবং ওই সব কারখানা ও গুদামে যাব। রাতে গুদাম বা কারখানায় যাতে কেউ না থাকেন, সে ব্যাপারে বুঝিয়ে বলা হবে। রাতে একান্তই থাকতে হলে বেরোনোর বিকল্প রাস্তারাখতে হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন