মাথায় থাকে হেলমেট, সঙ্গে স্কুটার। শ্লীলতহানি করে দ্রুত পালাতেন অভিযুক্ত। ছবি: সিসিটিভি থেকে পাওয়া।
স্কুটার নিয়ে রাস্তায় বেরোলেই মহিলাদের সঙ্গে অভব্যতা করেন। একের পর এক শ্লীলতাহানির অভিযোগ হাওড়ার রাস্তা থেকে গ্রেফতার হলেন এক মদ ব্যবসায়ী। এই নিয়ে শোরগোল হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকায়। অভিযুক্তের দোকান বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি কড়া শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসীরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গত রবিবার চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকার গদাধর মিস্ত্রি ২ বাই লেনে এক স্কুটারচালক পাকড়াও করেন স্থানীয়েরা। খবর দেওয়া হয় থানায়। তার পর পুলিশ গিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, দুপুরে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন এক তরুণী। উল্টো দিক থেকে মাথায় হেলমেট পরে স্কুটার নিয়ে এগোচ্ছিলেন অভিযুক্ত। ওই তরুণীর সামনে গিয়ে হঠাৎ বাইক ঘুরিয়ে নেন। তার পর ভরা রাস্তায় তাঁর সঙ্গে অভব্যতা করেন। স্থানীয় ক্লাবের সিসিটিভিতে সেই দৃশ্য ধরা পড়ার পর যুবককে শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁকে ওই এলাকা থেকেই ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন কয়েক জন।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত যুবক একটি মদের দোকানের মালিক। তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ একটি নয়, একাধিক। তার প্রমাণ হাওড়ার রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ থেকেই পাওয়া গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, রবিবার শিবপুর এলাকাতেও এক যুবতীর শ্লীলতাহানি করেন মদ দোকানের মালিক। ‘নির্যাতিতা’ বা অন্য কেউ তাঁকে ধরার আগেই স্কুটারে স্টার্ট দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। তার পর একই কীর্তি করেন ২ নম্বর গদাধর মিস্ত্রি লেনেও। সেখানেও এক যুবতীর শ্লীলতাহানি করে স্কুটার নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
গত শনিবারও এমন আরও একটি ঘটনা ঘটিয়েছেন ধৃত। পুলিশ সূত্রে খবর, শিবপুর এলাকায় এক শিক্ষিকার শ্লীলতাহানি করেন তিনি।
এলাকাবাসীরা জানাচ্ছেন, হাওড়ার শৈলেন মান্না সরণিতে অভিযুক্তের মদের দোকান রয়েছে। সেখানেও অনিয়মের অভিযোগ। অনেকে নাকি মদ কিনে রাস্তাতেই পান করেন। ওই ফুটপাথ দিয়ে যাতায়াত কার্যত এড়িয়ে চলেন মহিলারা। উল্লেখ্য, বিভিন্ন জেলা সফরে যাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী যখন ডুমুরজলা হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে যান, তখন মদের দোকানের পাশের রাস্তা দিয়ে তাঁর গাড়ি যায়। স্থানীয়দের রোষে মঙ্গলবার ওই মদের দোকান খোলেনি। মঙ্গলবার স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব চ্যাটার্জিহাট থানায় ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন। সকলেই চান, অভিযুক্তের মদের দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন। ইভটিজ়ারের কড়া শাস্তি চেয়েছেন সকলে।
পুলিশ জানিয়েছে, দু’টি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।