হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আহত বৃদ্ধকে। —নিজস্ব ছবি।
এসআইআরের শুনানিতে হাজিরা দিতে গিয়ে মাথা ফাটল এক বৃদ্ধের। রবিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল হুগলির তারকেশ্বরের বিডিও অফিসের শুনানিকেন্দ্রে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বিডিও অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু দেখান।
তারকেশ্বর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভরতচন্দ্র সামন্ত এবং তাঁর স্ত্রী চিত্রলেখা সামন্তকে এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। অসুস্থ ভরতকে স্ত্রীকে নিয়ে টোটো করে শুনানিতে হাজিরা দিতে যাচ্ছিলেন। ঠিক বিডিও অফিসের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় টোটো। তিন চাকার যান থেকে নামতে গিয়ে পড়ে যান বৃদ্ধ। মাথায় চোট পান তিনি। মুহূর্তের মধ্যে ওই নিয়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। পরে বিডিও এবং পুলিশের সহযোগিতায় তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে হয় জখম ভরতকে। তার মধ্যে বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে শাসকদল।
তৃণমূলের প্রশ্ন, বযস্কদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুনানি করা হবে, নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণার পরেও কেন এই অবস্থা হচ্ছে। প্রতিদিন কোনও না কোনও জায়গা থেকে বয়স্কদের হয়রানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, ‘‘৮৫-র উপর বয়স হলে বাড়ি গিয়ে শুনানি করবে, কমিশনের এই কথার পরেও তারকেশ্বরের চিত্রটা বদলালো না কেন? একজন বৃদ্ধের এই অবস্থার দায় কে নেবে?’’
বিডিও সীমা চন্দ্রের ব্যাখ্যা, ‘‘কমিশনের নির্দেশ মেনেই শুনানি হচ্ছে। বিএলও-রা তথ্য দিলে তবেই বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়ি গিয়ে শুনানি করা হচ্ছে।’’
ভরতের আহত হওয়ার প্রেক্ষিতে অবশ্য তৎপরতা দেখা যাচ্ছে প্রশাসনের। মাইকিং করা হচ্ছে এলাকায়। বলা হচ্ছে, নোটিস পেয়েছেন অসুস্থ বা বৃদ্ধ এমন কেউ থাকলে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি হবে।