—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ভোটের তাপ ছড়াচ্ছে। তবে, রাজনৈতিক অশান্তির আঁচ নেই হরিপালে বালিয়া, দঁক, গোপালপ্রসাদ ইত্যাদি এলাকায়। শোনা যাচ্ছে শুধু শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ।
বাম আমলে রাজনৈতিক হানাহানিতে প্রায়ই তেতে উঠত হরিপালের নানা এলাকা। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের সময় থেকেই হরিপালে লাল বদলে সবুজ। একের পর এক নির্বাচনে তৃণমূলের ঝুলি ভরেছে। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, তারা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অশান্তির বাতাবরণ উধাও।
২০১১ থেকে ১০ বছর এখানে বিধায়ক ছিলেন বেচারাম মান্না। গত বার তিনি সিঙ্গুরে প্রার্থী হন। হরিপালে দাঁড়ান তাঁর স্ত্রী করবী মান্না। দু’জনেই জেতেন। করবীর পাশাপাশি হরিপালে সময় দিয়েছেন মন্ত্রী বেচারামও। ১৮টি পঞ্চায়েতের প্রত্যেকটি তৃণমূলের দখলে। দলে বেচারামের একচেটিয়া প্রভাব মানতে না পেরে তৃণমূল ছেড়ে একাধিক নেতা এখন অন্য দলে। সব সত্ত্বেও দলে বেচারামের প্রভাব বেড়েছেই। তিনি বলেন, ‘‘বাম আমলে বিরোধী থেকে সাধারণ মানুষের উপরে অত্যাচার দেখেছে হরিপাল। এখন মানুষ শান্তিতে। সিপিএমও।’’ করবীরও দাবি, গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা শূন্য।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব বিরোধীরা। হরিপালে এক সময়ে তৃণমূলের হয়ে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রথম সারিতে ছিলেন মোজফ্ফর আলি ওরফে মাজা। এ বার তিনি আইএসএফ প্রার্থী। সিপিএমের কর্মীরা তাঁর প্রচারে গা ঘামাচ্ছেন। মাজার কথায়, ‘‘তৃণমূল দুর্নীতির আখড়া। ওদের নেতারা কী থেকে কী হয়েছেন, হরিপালবাসী জানেন।’’ সিপিএম নেতা মিন্টু বেরার প্রতিক্রিয়া, ‘‘তৃণমূল এ বার ধরাশায়ী হবে। তাই বাম আমলে সন্ত্রাসের মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। নতুন প্রজন্ম বুঝেছে, তৃণমূল তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে।’’
বিজেপি প্রার্থী মধুমিতা ঘোষের মন্তব্য, ‘‘তৃণমূলের লোকেরা যা দুর্নীতি করছেন, হরিপালের মানুষ আর তাঁদের ভোট দেবেন না।’’ কংগ্রেস প্রার্থী সাইফ আজাদ বলছেন, ‘‘১৫ বছরে এখানে উন্নয়ন মানে শুধু ভাতা! পঞ্চায়েতের সদস্য থেকে উপরতলার নেতা, সকলের সম্পদ বেড়েছে।’’
এলাকায় উন্নয়ন অবশ্য চোখে পড়ে। অনেক রাস্তা ভাল হয়েছে। পথবাতি বসেছে। খালের উপরে ১৭টি পাকা সেতু হয়েছে। সমস্যাও অনেক। আলুর অতিরিক্ত ফলনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাষি। এলাকায় আনাজের হিমঘরের দাবি রয়েছে। বাড়ি বাড়ি জল সর্বত্র পৌঁছয়নি। সমস্যা নিকাশি নিয়েও। গ্রামীণ হাসপাতাল ১০০ শয্যার হলেও পরিষেবায় অসন্তোষ রয়েছে গ্রামবাসীর। হড়ার বাসিন্দা সন্দীপ সিংহ বলেন, ‘‘অনেক কাজ হয়েছে। আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে জঞ্জাল অপসারণ, নিকাশি ব্যবস্থার মতো কিছু কাজকে প্রাধান্য দেওয়া দরকার।’’
মাজার কথায়, ‘‘হাসপাতালের ভবন ঝকঝকে। কিন্তু পরিষেবা লাটে। আমরা এলে হাসপাতালের মান বাড়বে।’’ মধুমিতার আশ্বাস, জিতলে গ্রামীণ হাসপাতালকে সুপার স্পেশ্যালিটি করবেন। বাস স্ট্যান্ড হবে।
মধুমিতা কৈকালায় থাকেন। নৃত্যশিল্পী। ‘ঘরের লোক’ হিসাবে তাঁকে তুলে ধরছে পদ্ম-শিবির। ১৯৯১ থেকে ১৫ বছর বিধায়ক ছিলেন হরিপালের বাসিন্দা, সিপিএমের (অধুনা প্রয়াত) কালীপ্রসাদ বিশ্বাস। তার পরে হরিপালের কোনও বাসিন্দা এলাকার বিধায়ক হননি। বিজেপির বক্তব্য, বিধায়ক স্থানীয় হলে ২৪ ঘণ্টাই পাওয়া যাবে। তৃণমূলের বক্তব্য, করবী সময় দেন। উপরি পাওনা বেচারাম।
হরিপাল সিনেমাতলার নিমাই দাসের চাহিদা, রাতে বাস, স্টেশনে আন্ডারপাস। মনসাতলার প্রকাশ বাগের খেদ, ‘‘বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছনোর জন্য রাস্তা খোঁড়া হল। সারানো হল না।’’ বর্ষায় হরিপাল স্টেশন বাজারে জল জমে। ডাকাতিয়া খাল সংস্কার হলেও সংলগ্ন কয়েকটি গ্রাম জলমগ্ন হয়। ফসল নষ্ট হয়।
করবীর বক্তব্য, ডাকাতিয়া হাওড়ার অংশে সংস্কার হলে সমস্যা মিটবে। আন্ডারপাসের জন্য রেলকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের নানা কথার পাশাপাশি তৃণমূলের প্রচারে যথারীতি ভাতার জয়গান।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে