গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম (এআই প্রণীত)।
রাজ্যে একই দিনে আরও তিন মৃত্যু। নেপথ্যে এসআইআরকে দায়ী করল তৃণমূল এবং মৃতের পরিবার। রবিবার পূর্ব বর্ধমান, কোচবিহার এবং নদিয়ার তিন বাসিন্দা মারা গিয়েছেন। একজন আত্মহত্যা করেছেন। বাকি দু’জন এসআইআরের আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন বলে দাবি।
পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের আমড়াল গ্রামের বাসিন্দা মিলন রায়ের পরিবারের দাবি, প্রথমে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ‘বিফল’ হয়ে রেললাইনে মাথা দিয়েছেন। এসআইআর শুনানিতে ডাক পাওয়া ৩৫ বছরের যুবকের এই চরম সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছেন বাড়ির লোকজন।
জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকায় মিলনের পদবিতে ভুল ছিল। আদতে বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার বাসিন্দা ওই যুবক ছেলেবেলা মাকে হারান। শৈশব থেকে খণ্ডঘোষে মামার বাড়িতে থাকতেন। মিলনের বাবার পদবি বাগদি। কিন্তু মিলনের পদবি রায়। লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির জন্য শুনানিতে ডাক পান তিনি। গত ২১ জানুয়ারি শুনানি ছিল খণ্ডঘোষ বিডিও অফিসে। কিন্তু ২০ জানুয়ারি, মঙ্গলবার দুপুরে বিষ খান মিলন। বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছিল তাঁকে। পরের দিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। শুনানিকেন্দ্রে আর যাওয়া হয়নি।
গত ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে মশাগ্রাম রেললাইনে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মিলন। শনিবার রাতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার পরিবার দাবি করেছে, এসআইআর-ই তাদের কাছ থেকে মিলনকে কেড়ে নিয়েছে। বুড়ি বাগদি ও আদুরী রায়রা জানান, শুনানির নোটিস পেয়ে দিশাহারা হয়ে প়ড়েছিলেন যুবক। তৃণমূল এবং সিপিএমের প্রতিক্রিয়া, এসআইআর-আতঙ্কে গরিব মানুষেরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায়। একের পর এক মৃত্যু হচ্ছে। মিলন তাঁদের মধ্যে একজন।
অন্য দিকে, কোচবিহারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’টি মৃত্যু সংবাদ মিলেছে। মাথাভাঙার পর কোচবিহারের শীতলখুচি বিধানসভার বড়কৈমারী অঞ্চলের ১৬২ নম্বর বুথের বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা ছপিয়া খাতুন বিবির মৃত্যু হয়েছে। পরিবার সূত্রে খবর, এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। আগামী ৩০ জানুয়ারি শুনানির তারিখ ছিল। সেই আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বৃদ্ধা। মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বৃদ্ধাকে। তার পর মাথাভাঙায় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। সেখানেই আচমকা মৃত্যু হয়েছে তাঁর। মৃতার সন্তানদের অভিযোগ, এসআইআর-আতঙ্কেই বৃদ্ধা মারা গিয়েছেন। তৃণমূলের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘‘এসআইআরের শুনানির নোটিস পেয়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ওই বৃদ্ধা। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। কিন্তু এই মৃত্যুর জন্য দায়ী কে? নির্বাচন কমিশন কি দায় এড়াতে পারে?’’
নদিয়ার নওদায় ৬৫ বছরের তোজাম্মেল শেখের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআরের নোটিস হাতে পাওয়ার পর থেকে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন তিনি। তার মধ্যেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।