West Bengal Elections 2026

উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূল কর্মীদেরই

এই কেন্দ্রের বিদায়ী তথা তিন বারের বিধায়ক নির্মল মাজিকে এ বার হুগলির গোঘাটে প্রার্থী করেছে দল।

নুরুল আবসার

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৩৪
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

গত বিধানসভা ভোটে উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূল জিতেছিল ২১ হাজার ভোটের ব্যবধানে। এ বারে এসআইআরে ভোটার-তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ২৪ হাজারেরও বেশি নাম। তা নিয়ে শাসক দলের উদ্বেগ তো আছেই, ‘অনুন্নয়ন’ এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে দলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের একাংশের প্রশ্নের মুখেও পড়তে হচ্ছে নেতৃত্বকে। প্রচারে সেই সুযোগটাই নিচ্ছে বিরোধীরা।

এই বিধানসভার তেহট্ট-কাঁটাবেড়িয়া ২ পঞ্চায়েতের কাটরা বাজার থেকে প্রায় ছ’কিলোমিটার রাস্তা চলে গিয়েছে তেহট্ট-কাঁটাবেড়িয়া ১ পঞ্চায়েতের মল্লিকপোল পর্যন্ত। পিচ উঠে যাওয়ায় রাস্তা এবড়ো-খেবড়ো। গর্তও প্রচুর। অথচ, এই রাস্তাই দু’টি পঞ্চায়েতের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।

এই কেন্দ্রের বিদায়ী তথা তিন বারের বিধায়ক নির্মল মাজিকে এ বার হুগলির গোঘাটে প্রার্থী করেছে দল। নির্মলের দাবি, ‘‘আমি উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রকে সাজিয়ে দিয়ে এসেছি।’’ এ কথা শুনে মুচকি হেসে স্থানীয় টোটোচালক শেখ কাদেরের পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘উন্নয়ন কী হয়েছে, নমুনা তো দেখলেন! এ রকম উন্নয়ন আরও আছে। আমরা টোটোচালকেরা প্রায়ই টের পাই।’’

ওই রাস্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে দলীয় কর্মীদেরও। জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এই রাস্তা এতদিন কেন সংস্কার করা হয়নি, বুঝতে পারছি না। নির্বাচন মিটে গেলেই সংস্কার করা হবে।’’

দলীয় কর্মীদের একাংশের দাবি, নির্মল এই কেন্দ্রে গোষ্ঠীবাজিতে মদত দিতেন। সে কারণেই উন্নয়ন সব জায়গায় সমান হয়নি। দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মী বসে গিয়েছিলেন। নির্মলকে এখানে আবার টিকিট দিলে দলের পরাজয়ের আশঙ্কা ছিল। নির্মল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে মদত বা সর্বত্র উন্নয়নের কাজ না-করা নিয়ে অভিযোগ মানেননি। তাঁর অনুগামী বলে পরিচিত জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তথা উলুবেড়িয়া উত্তর ব্লক তৃণমূল সভাপতি বিমল দাসকে এ বারে প্রার্থী করেছে দল। বিমলেরও দাবি, ‘‘এখানে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। সবাই মিলেমিশে কাজ করছি।’’

আমতা ১ ব্লকের ছ’টি এবং উলুবেড়িয়া ২ ব্লকের আটটি পঞ্চায়েত নিয়ে উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্র। আমতা শহর পড়ে এই কেন্দ্রে। এখানে ঝাঁ চকচকে পাঁচতলা গ্রামীণ হাসপাতাল হয়েছে। শীঘ্র এটিকে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে উন্নীত করা হবে বলে জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা খরচে প্রেক্ষাগৃহ চালু করা হয়েছে সম্প্রতি। তৈরি হয়েছে ঝকঝকে বাস স্ট্যান্ড। আধুনিক সুলভ শৌচাগার। কাজ শুরু হয়েছে নতুন দমকল কেন্দ্রের। গ্রামে বহু পিচ ও ঢালাই রাস্তা হয়েছে। আবার কিন্তু শহরের প্রধান রাস্তাকে যানজটমুক্ত করতে বাইপাস রাস্তা আজও হয়নি। বহু গ্রামে পাইপলাইন পাতা হলেও বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছচ্ছে না বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ।

যেটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বিরোধীদের। এই কেন্দ্রের বিজেপি নেতা পিন্টু পাড়ুইয়ের দাবি, আমতা গ্রামীণ হাসপাতালে ন্যূনতম পরিষেবা বিশেষ মেলে না। সাধারণ অসুখ নিয়ে কেউ গেলেও ‘রেফার’ করা হয় উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ বা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। রাস্তার যাত্রী-নিবাসগুলি অসামাজিক কাজের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বেছে বেছে আবাস যোজনায় টাকা দেওয়া হয়েছে। ফলে, বহু মানুষ এখনও ত্রিপল চাপিয়ে কুঁড়েঘরে বসবাস করছেন। অধিকাংশ বাড়িতে নলবাহিত পানীয় জল পৌঁছয়নি। উল্টে বহু জায়গায় নলকূপ বিকল হয়ে গেলেও মেরামত করা হয়নি। গরমে মানুষ পানীয় জল পাচ্ছেন না বলে তাঁর অভিযোগ। একই অভিযোগ সিপিএম প্রার্থী অশোক দলুই এবং কংগ্রেস প্রার্থী কল্যাণী হালদারেরও।

এই কেন্দ্রে তৃণমূলের রাজনৈতিক দাপট অবশ্য আছে। আমতা ১ ও উলুবেড়িয়া ২ পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের চারটি আসন আছে তাদের দখলে। ১১টি পঞ্চায়েতের একটি ছাড়া বাকিগুলিতেও তৃণমূলের আধিপত্য। বিমলের হয়ে প্রচারে এসে মন্ত্রী পুলক রায়ের দাবি, ‘‘দিদির উন্নয়নমূলক কাজের নিরিখে প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জেতাবেন মানুষ।’’

বিজেপি প্রার্থী চিরণ বেরা পাল্টা দাবি করেছেন, ‘‘তৃণমূলের দুর্নীতির প্রতিবাদ করার জন্য মানুষ মুখিয়ে আছেন। ভোটের ফলেই তৃণমূল প্রমাণ পাবে।’’ বাড়ি বাড়ি প্রচারে জোর দিয়েছে সিপিএম এবং কংগ্রেসও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন