TMC's Clash in Hooghly

তৃণমূল বনাম তৃণমূল, ফল ৯-০! সমবায় ভোটে বিধায়কের গোষ্ঠীকে হারাল উপপ্রধানের গোষ্ঠী

রবিবার ছিল তারকেশ্বরের পিয়াসাড়া স্টেশনপট্টি সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির ভোট। এই নির্বাচন ঘিরে আগেই তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৭
Share:

তারকেশ্বরে তৃণমূল বনাম তৃণমূল! —নিজস্ব ছবি।

ভোটে যারাই জিতুক, সবুজ আবিরই উড়বে। তার পরেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তৃণমূল এবং তৃণমূল। তা-ই নিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়ল হুগলির তারকেশ্বরে। শাসকদলের বিবাদমান দুই পক্ষকে সরিয়ে এলাকায় শান্তি আনতে হিমশিম খেতে হল পুলিশকে। ফলাফল বেরনোর পর আবার উত্তেজনা ছড়ায়। বিধায়কের গোষ্ঠী পরাজিত হল ৯-০ ব্যবধানে।

Advertisement

রবিবার ছিল তারকেশ্বরের পিয়াসাড়া স্টেশনপট্টি সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির ভোট। এই নির্বাচন ঘিরে আগেই তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। বিধায়ক রমেন্দু সিংহ রায় শুরু থেকে জানিয়ে আসছেন, বিদ্রোহীরা দলের কেউ নন। কিন্তু ভোটের সময় দেখা গেল দুই পক্ষই লড়ছে! তাদের বাদানুবাদ, একে অন্যকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি থেকে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুই পক্ষকেই দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যেতে সক্রিয় হয় পুলিশ। ভোটগ্ৰহণ কেন্দ্রের আশেপাশে জারি হয় ১৬৩ ধারা।

কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি?

Advertisement

স্থানীয় তৃনমূল নেতা মুন্সি বদরুজ্জা বলেন, ‘‘আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল করি। তৃণমূল দল থেকে প্রার্থী দিয়েছি। আমাদের একজন ভোটার এবং এজেন্ট বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ বাইরে থেকে এসে তাঁকে গালাগালি করতে থাকে একজন। তার পরেই উত্তেজনা।’’ অপর পক্ষের রবীন বাগ জানান তিনিও তৃণমূল। তাঁর দাবি, ‘‘এখানে তৃণমূলের দুটো গোষ্ঠী। ওরা (বদরুজ্জা) বিধায়কের লোকজন। এলাকায় নোংরামি করছিল। আমরা তার প্রতিবাদ করেছি।’’

সমবায় ভোট নিয়ে দলেরই দুই পক্ষের এমন লড়াইয়ে অস্বস্তিতে শাসকশিবির। বিধায়ক অবশ্য বলেন, ‘‘ওরা দলবিরোধী কাজ এর আগেও করেছে।ওই পঞ্চায়েতে ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সালে আড়াই হাজার ভোটে হারিয়েছে তৃণমূল। দল ওদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে বলেছে। এর পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটা দল বুঝবে।’’ তিনি আরও জানান, এসআইআরের কাজ চলছে। তাই ৩০০ ভোটার সমবায় নির্বাচনে ভোট দিতে যেতে পারেননি।

ফলাফলে দেখা গেল এলাকার পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ মনিরুলের গোষ্ঠীর ৯ জন সদস্য জয়লাভ করেছেন। বিধায়ক রামেন্দুর গোষ্ঠীর এক জন প্রার্থীও জিততে পারেননি। ফল দেখে দলের বিধায়কের উদ্দেশে উপপ্রধান গোষ্ঠীর তৃণমূল নেতা তথা সমবায় ভোটে বিজয়ী প্রার্থী সাইদুল মোল্লা বলেন, ‘‘তারকেশ্বর বিধানসভায় রামেন্দু সিংহ রায় আবার যদি প্রার্থী হন, ফল এ রকমই হবে।’’

বিধায়ক আর ফোন ধরেননি। তারকেশ্বর ব্লকের তৃণমূল ব্লক সভাপতি প্রদীপ সিংহ রায়ও কোনও কথা বলতে চাননি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement