মোরামের চেয়েও খারাপ, ক্ষোভে পথে মহিলারা

ঘটা করে শিলান্যাস করা হয়েছিল। কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু বছর ঘুরে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। উল্টে অসমাপ্ত কাজের ফলে পাথর উঠে চলাচলের অযোগ্য হয়ে গিয়েছে রাস্তা। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে কাজ শেষ করার দাবিতে রাস্তা অবরোধ করলেন মহিলারা। সোমবার ঘটনাটি ঘটে চণ্ডীতলার জনাইতে। প্রায় ৫ ঘণ্টা পরে অবরোধ ওঠে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৬ ০২:৪৯
Share:

চণ্ডীতলায় বিক্ষোভ-অবরোধ। ছবি: দীপঙ্কর দে।

ঘটা করে শিলান্যাস করা হয়েছিল। কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু বছর ঘুরে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। উল্টে অসমাপ্ত কাজের ফলে পাথর উঠে চলাচলের অযোগ্য হয়ে গিয়েছে রাস্তা। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে কাজ শেষ করার দাবিতে রাস্তা অবরোধ করলেন মহিলারা। সোমবার ঘটনাটি ঘটে চণ্ডীতলার জনাইতে। প্রায় ৫ ঘণ্টা পরে অবরোধ ওঠে।

Advertisement

বারোমন্দিরতলা থেকে বিবিরতলা হয়ে মনিরামপুর হাটতলা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার রাস্তা প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় পাকা করার কথা। প্রায় আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। রাস্তাটি আগে মোরামের ছিল। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে কাজের সূচনা করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৪ সালের ১০ মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। উত্তরবঙ্গের লাটাগুড়ির একটি সংস্থা কাজের বরাত পায়। গ্রামবাসীর অভিযোগ, কাজ শুরু হয় ঢিমেতালে। মাঝেমধ্যেই কাজ বন্ধও হয়ে যায়। শেষে রাস্তায় পাথর ফেলে রোলিং করা হলেও কাজ এগোয়নি।

ফলে কিছু দিনের মধ্যেই পাথর বেরিয়ে পড়তে শুরু করে। বর্তমানে রাস্তার নানা জায়গায় ছোট-বড় গর্ত হয়ে গিয়েছে। ওই পথ দিয়ে চলাচল করা বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে রাস্তাটি কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। জনাই-বারুইপা়ড়া রুটের ট্রেকার চলে। এই রাস্তার উপরেই পঞ্চায়েত কার্যালয়। একটি উচ্চ মাধ্যমিক ও তিনটি প্রাথমিক স্কুল, আছে ব্যাঙ্ক। কিন্তু বর্তমানে রাস্তাটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ধুলো ওড়ে।

Advertisement

তাই দ্রুত কাজ শেষ করার দাবিতে এ দিন সকাল ৭টা নাগাদ শ’খানেক মহিলা রাস্তায় নেমে পড়েন। বারোমন্দিরতলা থেকে মাধেপুর পর্যন্ত ৬টি জায়গায় অবরোধ করেন তাঁরা। কোথাও বাঁশের ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়। কোথাও গাছের গুঁড়ি ফেলে পথ আটকানো হয়। কোথাও রাস্তার উপরেই বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে প্রমীলা বাহিনী। দুপুর ১২টা নাগাদ ব্লক অফিস থেকে প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁদের আশ্বাসে অবরোধ ওঠে।

মনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক বধূ বলেন, ‘‘গা়ড়িঘোড়া গেলেই ধুলোয় ঘর ভরে যায়। রাস্তার এমন অবস্থা হাঁটাচলা করাও দায়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ বাইরে গেলে ভয় লাগে।’’ তাপসী হালদার নামে আর এক মহিলার ক্ষোভ, ‘‘সাংসদ, বিধায়ক দাঁড়িয়ে থেকে কাজের সূচনা করলেন। কিন্তু বাস্তবে হলটা কী! রাস্তাটি পাকা হবে, এটা আমাদের বহুদিনের আশা। এখন মনে হয় আগেকার মোরাম রাস্তাই ভাল ছিল!’’

প্রশাসন সূত্রের খবর, নানা কারণে ঠিকাদার কাজ শেষ করতে পারেননি। উত্তরবঙ্গের সংস্থাটির সঙ্গে সে ভাবে সমন্বয় সাধনও করা যায়নি। জেলা পরিষদের সদস্য সুরজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘‘ঠিকাদার ঠিকমতো কাজ করেননি। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগও করেননি। আমরাও চেষ্টা করে যোগাযোগ করতে পারিনি। ভোট মিটলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement