ডেঙ্গির আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না হুগলি জেলাবাসীর। শ্রীরামপুরের পরে এ বার ডেঙ্গি থাকা বসিয়েছে আরামবাগে। দিন কুড়ে ধরে কয়েক জনের রক্তের নমুনা পাঠানো জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। মঙ্গলবার জেলা সদর হাসপাতাল থেকে পাঠানো রিপোর্টে ৬ জনের রক্তে ডেঙ্গি ‘পজিটিভ’ ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক সিদ্ধার্থ দত্ত।
মহকুমা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২২ জন জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে ১০-১২ জনের মাথা, ঘাড়, গাঁটে ব্যথা ইত্যাদি ডেঙ্গির উপসর্গ মিলছে। মহকুমা হাসপাতাল হলেও এখানে রক্ত পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা। সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে হাসপাতাল সুপার শান্তনু নন্দী বলেন, ‘‘এখানে শুধু আমরা চিকিৎসাটা করছি। সন্দেহ হলেই রোগীদের প্রতিটি ক্ষেত্রে রক্ত সংগ্রহ করে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।’’
এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি পজিটিভ খবর মেলায় উদ্বিগ্ন মহকুমা প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য দফতর, পুরসভা এবং বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন মহকুমাশাসক প্রীতি গোয়েল। ডেঙ্গি প্রতিরোধ নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের নির্দিশিকা যথাযথ পালনের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক সিদ্ধার্থ দত্ত বলেন, ‘‘ডেঙ্গি রোধে আমরা ইতিমধ্যেই সচেতনতা শিবির শুরু করেছি বিভিন্ন গ্রামে। কী করতে হবে এবং কী করা চলবে না, তা নিয়ে অঙ্গনওয়াড়ি, আশাকর্মী-সহ স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও প্রচার অভিযান চালাচ্ছেন।’’ জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী প্রতিটি পঞ্চায়েত এবং পুরসভা কর্তৃপক্ষর কাছে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করেছেন পুরসভা এলাকা, স্কুল, বাড়ি-সহ সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গায় জমা আবর্জনা পরিষ্কার করার। মশা জন্মানোর বা ডিম পাড়ার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলিতে ওষুধ স্প্রে করা-সহ ১২ দফা কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। মহকুমা স্বাস্থ্য দফতর থেকে ইতিমধ্যে নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ‘জ্বর সার্ভে’ শুরু হয়েছে। পঞ্চায়েতের সহযোগিতায় ডেঙ্গির বাহক বিশেষ প্রজাতির মশার প্রজনন উৎসগুলি চিহ্নিত করায় জোর প্রচার এবং সচেতনতা চলছে।
আরামবাগ মহকুমায় ডেঙ্গির এ বার শুধু দেখা যায়নি। ২০১৪ সালে এই মহকুমার খানাকুল ১ ব্লকের কিশোরপুর ১ ও ২ পঞ্চায়েত এলাকায় ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। মহিষগোট, মদনবাটি, গুজরোট, নিরঞ্জনবাটি, বামনখানা ইত্যাদি গ্রামে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৯ জনের ডেঙ্গি পজিটিভ মিলেছিল। তাঁদের মধ্যে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতলে স্থানান্তরিত করা মহিষগোট গ্রামের প্রদীপ পাত্র (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এ বছর শ্রীরামপুরে ব্যাপক ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিয়েছে। তার পরেও এত দেরিতে টনক নড়ল কেন? স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে যেমন উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে, তেমনি স্থানীয় প্রশাসনের দৈনতার সুযোগ নিয়ে হাতুড়ে ডাক্তাররা রোগীদের ভুল বুঝিয়ে ৫-৭ দিন আটকে রাখছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মানুষ। অভিযোগের বিষয়ে সদুত্তর মেলেনি। হাসপাতাল সুপার শান্তনু নন্দী অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘চিকিৎসা চলছে। সকলেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। আশঙ্কার কারণ নেই।’’