পারাপার: দুর্ঘটনা এড়াতে মুম্বই রোডে নিবড়ার কাছে তৈরি হয়েছে ফুট ওভারব্রিজ। —নিজস্ব চিত্র।
এক বছর আগে পর্যন্ত দুর্ঘটনাপ্রবণ বলে চিহ্নিত ছিল নিবড়া। হাওড়ার ডোমজুড়ের এই এলাকার সুনাম রয়েছে পাঞ্জাবি তৈরির জন্য। গ্রামের বুক চিরে চলে গিয়েছে মুম্বই রোড (৬ নম্বর জাতীয় সড়ক)। ব্যবসায়ীদের আনাগোনা থেকে ব্যবসাপত্তর সবই চলে মুম্বই রোড ধরে। ফলে গাড়ির চাপও বেশি। তার উপর আছে হাইস্কুল। নিবড়া গ্রাম থেকে কয়েকশো ছাত্রছাত্রী স্কুলে যায়। কিন্তু ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে ইষ্টনাম জপতেন বাবা-মায়েরা।
তবে নিবড়ায় জাতীয় সড়কের উপর তৈরি ফুটওভারব্রিজ সেই ছবি অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। সদাব্যস্ত মুম্বই রোড পার হতে ওই ফুটওভারব্রিজই এখন এলাকার মানুষের কাছে সেরা উপায়। শুধু পথচারি নয়, মোটরবাইক এবং সাইকেল পার হওয়ার জন্য ফুটওভারব্রিজে তৈরি হয়েছে পৃথক র্যাম। স্থানীয় মানুষের দাবি, এর ফলে দুর্ঘটনাও অনেক কমে গিয়েছে।
মুম্বই রোডে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এখন এই ‘নিবড়া মডেল’ই আঁকড়ে ধরতে চাইছে পুলিশ। নিবড়া থেকে উলুবেড়িয়ার কুলগাছিয়া পর্যন্ত আরও ৯টি ফুটওভারব্রিজ তৈরির প্রস্তাব জাতীয় সড়ক সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে জেলা পুলিশের তরফে। এমনিতেই নিবড়া থেকে কোলাঘাট পর্যন্ত গ্রামীণ জেলা পুলিশের আওতায় থাকা মুম্বই রোডের ৫৫ কিলোমিটার অংশে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে জাতীয় সড়ক সংস্থার তৈরি সাবওয়ে রয়েছে। এ ছাড়াও পাঁচলা মোড়, নিমদিঘি, রানিহাটি, বাগনান প্রভৃতি জায়গায় সাবওয়ে তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত দুর্ঘটনা কমাতে এবং যানজট এড়াতেই এই ব্যবস্থা।
তা হলে ফুটওভারব্রিজ তৈরির প্রস্তাব কেন?
জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, মুম্বই রোডের দুধারেই রয়েছে গ্রাম। মাঝেমধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা। শুধু সাবওয়ে করে দুর্ঘটনা পুরোপুরি এড়ানো যায়নি। সে জন্যই দ্বিতীয় ব্যবস্থা। পুলিশের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কয়েকটি এলাকায় পথচারী এবং মোটরবাইক আরোহীরা আড়াআড়ি মুম্বই রোড পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন। নিবড়া ছাড়াও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হল আলমপুরে জালান ১ নম্বর গেট, ধূলাগড়িতে নির্মলা সিনেমার ক্রসিং, পলিপার্ক এবং হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক সংলগ্ন রাস্তা, রানিহাটির কাছে খাঁ পাড়া, ধামসিয়ার কাছে এক্স রিং বলে পরিচিত এলাকা, উলুবেড়িয়া সিআইপিটি কলেজ, পিরতলা কাট আউট এবং শ্রীরামপুর কাট আউট। সেই কারণেই ওই সব এলাকায় নিবড়ার আদলে আরও নটি ফুটওভার ব্রিজ তৈরির প্রস্তাব জাতীয় সড়ক সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে।
জেলার পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘‘পরিকাঠামোর কিছু অসুবিধা আছে। তাই মুম্বই রোডে নিশ্ছিদ্র নজরদারি এখনই সম্ভব নয়। তবে ফুট ওভারব্রিজ হলে পথচারী থেকে সাইকেল, বাইক আরোহীদের দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা কমে যাবে অনেকটাই।’’