ফের ভাবাদিঘিতে রেলপথ নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় গোঘাট-১ ব্লকে হাজির হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে চান জানিয়ে খবর পাঠান জেলাশাসক।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

গোঘাট শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০২:১৫
Share:

এই দিঘি নিয়েই বিতর্ক। —নিজস্ব চিত্র

এক বছর কোনও আলোচনা হয়নি। গোঘাটের ভাবাদিঘিতে আটকে থাকা রেলপথ নির্মাণ নিয়ে ফের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়ে বার্তা পাঠালেন হুগলির নবনিযুক্ত জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় গোঘাট-১ ব্লকে হাজির হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে চান জানিয়ে খবর পাঠান জেলাশাসক। আন্দোলনকারীরা জেলাশাসককে গ্রামে এসে আলোচনার আমন্ত্রণ জানান। তিনি এ দিন গ্রামে না গেলেও শীঘ্রই গিয়ে আলোচনায় বসবেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

এ নিয়ে জেলাশাসক বিশেষ মন্তব্য করতে চাননি। শুধু বলেন, ‘‘পরে জানানো হবে।” মহকুমাশাসক (আরামবাগ) লক্ষ্মীভব্য তান্নিরু বলেন, “এটা পুরোটাই জেলা স্তরের বিষয়। তবে গ্রামটিতে উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজ জোরকদমে চলছে।” তাঁদের আলোচনায় বসতে আপত্তি নেই জানিয়ে ‘ভাবাদিঘি দিঘি বাঁচাও’ কমিটির সম্পাদক সুকুমার রায় বলেন, ‘‘দিঘি নিয়ে জেলাশাসক কথা বলতে চাইছেন। আলোচনার জন্য তাঁকে গ্রামে আসার আর্জি জানিয়েছি। গ্রামের সবাই তাতে যোগ দেবেন। জেলাশাসক একদিন আসবেন বলে জানিয়েছেন। আমাদের একটাই কথা। রেলপথে আপত্তি নেই। কিন্তু দিঘি নষ্ট করে নয়। দিঘির উত্তরপাড় দিয়ে রেলপথ হোক।”

Advertisement

তারকেশ্বর থেকে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর— এই ৮২.৫ কিলোমিটার রেল প্রকল্পে তারকেশ্বরের দিক থেকে গোঘাট পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ হয়ে গিয়েছে। কামারপুকুর পর্যন্ত রেলপথের মাটির কাজও সম্পন্ন। খালি ভাবাদিঘি অংশটা বাকি। সেখানে দিঘির প্রায় মাঝখান দিয়ে রেলপথ তৈরির নকশা হয়েছে। তাতেই গ্রামের মানুষ তথা দিঘির অংশীদাররা আপত্তি তুলে আন্দোলন শুরু করেছেন।

আন্দোলনকারীদের শর্ত মেনেই এক বছর ধরে তাঁদের সঙ্গে ওই রেলপথ নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে কোনও আলোচনা হয়নি। গ্রামবাসীর নানা বঞ্চনার অভিযোগ মেটাতে গ্রামোন্নয়নের কাজ ধারাবাহিক ভাবে গত বছরের ২০ জুলাই থেকে চলছে। বিডিও অনন্যা ঘোষ বলেন, “গ্রাম উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজ অনেক হয়েছে। রাস্তাঘাট, শৌচাগার নির্মাণ-সহ কিছু কাজ এখনও চলছে।” সুকুমারবাবু বলেন, ‘‘বুধবার সকালে বিডিও গ্রামোন্নয়নের হাল-হকিকত জানতে ডেকে দিঘির পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চান। তখনই আমাদের বরাবরের দাবির কথা জানাই। বলেছি, মাত্র বিঘা আটেক অতিরিক্ত জমি কিনলেই তা সম্ভব হবে। সে দিন দুপুরেই বিডিও ভাবাদিঘি পরিদর্শন করেন।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন