দিন কয়েক আগে একটা মশা মেরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। নিজের জ্বরের উপসর্গের কথা চিকিৎসককে জানানোর পাশাপাশি শ্রীরামপুরের নেতাজি সুভাষ অ্যাভিনিউর বাসিন্দা ওই ব্যক্তি মশাটিকে দেখিয়ে বলেন, ‘‘ডাক্তারবাবু, এটাই কি এডিস ইজিপ্টাই?’’ ভালভাবে নিরীক্ষণ করে, বইপত্র ঘেঁটে চিকিৎসক জানালেন, ‘‘এটি সেই প্রজাতিরই বটে।’’
গত শনিবার মাহেশের এক বধূকে মশা কামড়েছিল। উদ্বিগ্ন স্বামী মশাটি মেরে মোবাইলের হোয়াটস অ্যাপ মারফত পাঠিয়ে দিলেন এক চিকিৎসকের কাছে। তাঁরও একই প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রেও উত্তর একই। বস্তুত, কালো শরীরে সাদা ছোপ কাটা এই মশার জ্বালায় এখন অতিষ্ঠ হুগলির গঙ্গাপাড়ের শহর শ্রীরামপুর। দেদার বংশবৃদ্ধি করে তারা অতর্কিতে হানা দিচ্ছে ঘরে ঘরে। আর তাতেই আতঙ্কিত পুরবাসী। স্বাস্থ্য দফতরের হিসাব বলছে, গত জানুয়ারি মাস থেকে এখনও পর্যন্ত দুই শতাধিক শহরবাসী ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ম্যালেরিয়ার মশার মতো ডেঙ্গির মশা বাড়ির দেওয়ালে বিশ্রাম করে না। তারা জুতোর ভিতরে, ছাতা বা জামাকাপড়ের মধ্যে থাকতে পছন্দ করে। তাই পূর্ণাঙ্গ এডিস ইজিপ্টাই মশাকে কীটনাশক ছড়িয়ে মারা কঠিন। এই মশার লার্ভা নিধনের চেষ্টা করা হয়। সেই মতোই বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা জলে বা নর্দমায় মশার তেল ছড়ানো হচ্ছে। সোমবারই প্রশাসনের তরফে গাপ্পি বা গাম্বুসিয়া জাতীয় মাছ পাঠানো হয়েছে শ্রীরামপুর পুরসভায়। শ্রীরামপুরের পুরপ্রধান অমিয় মুখোপাধ্যায় জানান, এই সব মাছ জলাধার বা নর্দমায় ছড়ানো হবে। কারণ এরা মশার লার্ভা খেয়ে ফেলে।
সপ্তাহ দু’য়েক আগে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী শশী পাঁজার সঙ্গে কথা বলেন। এর পরেই শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালে এসে বৈঠক করেন জেলাশাসক সঞ্জয় বনশল এবং মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী।
সম্প্রতি শহরে ডেঙ্গি পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে যান রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর (ম্যালেরিয়া) অধীপ ঘোষ। দিন কয়েক আগে কেন্দ্রের তরফেও এক প্রতিনিধি এসে ওয়ালশ হাসপাতাল এবং পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভ্রাংশু চক্রবর্তীর দাবি, ডেঙ্গির প্রকোপ কমাতে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার সুফলও মিলেছে। গত কয়েক দিনে হাসপাতালে জ্বর নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। ফিভার ক্লিনিকেও রোগীর সংখ্যা অনেক কম।’’ স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘দু’সপ্তাহ ধরে মশার লার্ভা নিধনে জোর পদক্ষেপ করা হয়েছে। তার ফলেই ডেঙ্গির প্রকোপ কমেছে। কেননা, লার্ভা নিধন হওয়ায় নতুন করে মশা জন্মাচ্ছে না। আর পূর্ণাঙ্গ মশার আয়ুও শেষ হয়ে যাচ্ছে।’’