প্রতীকী ছবি।
আবাসন ব্যবসায় দুষ্কৃতীদের অভ্যন্তরীণ গোলমালে জড়িয়ে পড়াই কাল হল শ্যামল দাসের!
বৃহস্পতিবার কোন্নগরের নবগ্রামে ওই ইমারতি ব্যবসায়ী খুনের তদন্তে নেমে এমনই মনে করছেন চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের তদন্তকারী অফিসাররা। সেই সূত্রে শিল্পাঞ্চল জুড়ে প্রোমোটারি ব্যবসায় দুষ্কৃতীরাজের প্রসঙ্গও সামনে চলে এসেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, পুলিশের খাতায় নাম না-থাকলেও সমাজবিরোধীদের সঙ্গে শ্যামলের ঘনিষ্ঠতা ছিল। লোহা কারখানায় কাজের পাশাপাশি এক সময়ের হুগলির ‘ডন’ হুব্বা শ্যামলের হাত ধরে তিনি ইমারতি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ২০০৬ সালে হুব্বা খুন হওয়ার পরে হুগলি শিল্পাঞ্চলের অন্ধকার জগতের রাশ চলে আসে সমাজবিরোধী রমেশ মাহাতোর হাতে। অন্য অনেকের মতোই শ্যামলও রমেশের ছত্রছায়ায় চলে যান। কিন্তু ঠিক কী কারণে শ্যামলকে খুন করা হল, তা নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে পুলিশ কিছু জানায়নি। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কেউ ধরাও পড়েনি।
বৃহস্পতিবার রাতেই নিহতের ভাই বিমল দাস উত্তরপাড়া থানায় দাদাকে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগে নির্দিষ্ট কারও নাম লেখা হয়নি। কমিশনারেটের এক কর্তা বলেন, ‘‘কিছু সূত্র মিলেছে। সেই অনুযায়ী তদন্ত চলছে। কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’’
বৃহস্পতিবার দুপুরে নবগ্রাম হীরালাল পাল কলেজের সামনে ডানকুনির জগন্নাথপুরের বাসিন্দা শ্যামল গুলিতে খুন হন। নবগ্রামে নির্মীয়য়মাণ আবাসনে ব্যবসার কাজেই এসেছিলেন শ্যামল। মিনিট পঁয়তাল্লিশ সেখানে থেকে মোটরবাইকে চেপে বাড়ি ফেরার জন্য এগোতেই কিছুটা দূরে দুষ্কৃতীরা তাঁকে খুন করে। তদন্তকারীদের অনুমান, আবাসন থেকেই দুষ্কৃতীরা তাঁকে ‘ফলো’ করছিল। তারা শ্যামলের পরিচিতও হতে পারে। পুলিশের বক্তব্য, নিহতের পকেট থেকে দু’টি ব্যাঙ্কের পাশবই মিললেও সে দিন তিনি ব্যাঙ্কে যাননি। টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে গোলমালেই খুনের সম্ভাবনা জোরালো। সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উত্তরপাড়া, কোন্নগর, নবগ্রাম, রিষড়া বা শ্রীরামপুরে রমেশ বা তার দলবলকে ‘বখরা’ না দিয়ে প্রোমোটিংয়ের কাজ করা যায় না, এমন অভিযোগ রয়েছে অনেক প্রোমোটারেরই। শ্যামলও প্রচলিত পথেই তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে নবগ্রাম, রিষড়ায় ইমারতি দ্রব্য সরবরাহ করছিলেন বলে পুলিশের দাবি। গত কয়েক বছরে ওই চত্বরে প্রচুর আবাসন গড়ে উঠেছে। ওই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুষ্কৃতী কার্যকলাপও বেড়েছে। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রম নামে এক দুষ্কৃতীর টাকা ব্যবসায় খাটাচ্ছিলেন শ্যামল। শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল। জগন্নাথপুর-সহ আশপাশের এলাকায় তাঁর প্রভাব বাড়ছিল। এ সব নিয়ে প্রতিপক্ষদের ‘টার্গেট’ হয়ে ওঠেন তিনি।
তদন্তকারী এক অফিসার জানান, এখানে অনেক ছোটখাটো সমাজবিরোধী দুষ্কর্ম ছেড়ে প্রোমোটিং ব্যবসা শুরু করেছে। অনেক ব্যবসায়ী আবার সরাসরি দুষ্কর্মে জড়িত নন। কিন্তু দুষ্কৃতীদের সঙ্গে সমঝোতা করে কাজ করেন। কাজ পাওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই লেগে থাকে। কেউ ‘দাদা’দের বেশি টাকা দিয়ে বেশি কাজ বাগিয়ে নেয়। কিন্তু অন্যদের চক্ষুশূল হয়ে ওঠে। কখনও লেনদেন নিয়ে গোলমাল বাধে। এ সব নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল শুরু হয়। বোমাবাজি থেকে অস্ত্র প্রদর্শন বা খুনখারাপি— কিছুই বাদ থাকে না।
শ্যামলের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।