গুরু আইপিএল, শ্রীরামপুর সরগরম এসপিএল নিয়ে

প্রথম বল অফস্টাম্পের সামান্য বাইরে। সপাটে স্কোয়্যার কাট। পয়েন্টের উপর দিয়ে বল মাঠের বাইরে। দু’হাতের বুড়ো আঙুল কাঁধে ঠেকিয়ে আম্পায়ার জানিয়ে দিলেন, দু’রান। এক ফালি জায়গায় খেলা। মাঠের (ঘাস বাড়ন্ত) এ প্রান্তটা আরও ছোট।

Advertisement

প্রকাশ পাল

শেষ আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:০৭
Share:

কেকেআর বনাম ডেকান ম্যাচের একটি মুহূর্ত।-নিজস্ব চিত্র।

প্রথম বল অফস্টাম্পের সামান্য বাইরে। সপাটে স্কোয়্যার কাট। পয়েন্টের উপর দিয়ে বল মাঠের বাইরে।

Advertisement

দু’হাতের বুড়ো আঙুল কাঁধে ঠেকিয়ে আম্পায়ার জানিয়ে দিলেন, দু’রান।

এক ফালি জায়গায় খেলা। মাঠের (ঘাস বাড়ন্ত) এ প্রান্তটা আরও ছোট। তাতে অবশ্য কুছ পরোয়া নেই। পরের দু’টো বল লং অনের উপর দিয়ে ছক্কা। বল গড়াগ়ড়ি খেল রাস্তার মোড়ে। মাইকে বেজে উঠল ভোজপুরি গান। পড়ন্ত রোদ্দুর গায়ে মেখে রয়্যাল শ্রীরামপুরের চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ওপেনারকে হাততালিতে ভরিয়ে দিলেন দর্শকেরা।

Advertisement

শ্রীরামপুরের শীলবাগান এখন আইপিএল, থুরি এসপিএল জ্বরে কাঁপছে। এসপিএল মানে ‘শীলবাগান প্রিমিয়ার লিগ’। আয়োজনে আইপিএলের ক্ষুদ্র সংস্করণ বলাই যায়। ‘কার্গো গ্রুপ’ নাম দিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন স্থানীয় কিছু যুবক। তাঁদের মধ্যে আসিফ আলম, মহম্মদ রাজ জানালেন, আইপিএলকে নকল করেই তাঁদের এই টুর্নামেন্ট।

খেলা শুরু হয়েছে গত ১৯ নভেম্বর। আগের দিন ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তারও ক’দিন আগে নিলাম। মাঠেই মাইক লাগিয়ে প্লেয়ারদের দর হেঁকেছিলেন যে সব টিম মালিকেরা, তাঁদের কেউ ব্যবসায়ী, কেউ হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়়ুয়া। উদ্যোক্তারা জানান, টিমের মালিকরা পাঁচ হাজার টাকা করে জমা দেন। নিলামে ওই টাকায় তাঁদের কমপক্ষে ১৩ জন খেলোয়াড় কিনতে হয়েছে।

সবচেয়ে দামি প্লেয়ার ‘কেকেআর’-এর অলরাউন্ডার সুজিত রায়। দাম ওঠে ১৬৮০ টাকা। দ্বিতীয় ‘দিল্লি ডেয়ারডেভিলস’-এর সুরজ আলি। দর ওঠে ১৫০০ টাকা। কোনও খেলোয়াড় অবশ্য হাতে টাকা পাননি। প্রতিযোগিতার শেষে চ্যাম্পিয়ন, রানার্স এবং তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের খেলোয়াড়রা তাঁদের যে দামে কেনা হয়েছে, সেই টাকা পাবেন। বাকিদের ফিরতে হবে খালি হাতেই। ফলে প্রত্যেক দলই জেতার জন্য মরিয়া। মাঠের ৯ জন খেলোয়াড়ের ৬ জনই স্থানীয়। সেটাই নিয়ম। টিম মালিকদের থেকে পাওয়া ৪০ হাজার টাকা পুরস্কারের জন্য খরচ করা হবে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২০ হাজার টাকা। রানার্স ১৫ হাজার। তৃতীয় স্থানাধিকারী দলকে দেওয়া হবে ৫ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী অরেঞ্জ ক্যাপ এবং একটি বাই-সাইকেল উপহার পাবেন। সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর জন্য রয়েছে পার্পল ক্যাপ এবং বাই-সাইকেল। পুরস্কার রয়েছে সেরা ক্যাচ, সেরা ফিল্ডার, সেরা উইকেটরক্ষকের জন্যও।

লিগ পর্যায়ে একটি দল বাকি সাতটি টিমের সঙ্গে একটি করে ম্যাচ খেলবে। ১০ ওভারের খেলা। জিতলে ২ পয়েন্ট। ২২টি খেলা হয়ে গিয়েছে। পয়েন্ট তালিকায় এক নম্বরে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। ছ’টি ম্যাচ খেলে তারা পাঁচটি জিতেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কেকেআর। দিল্লির থেকে একটি ম্যাচ কম খেলে তাদের ঝুলিতে ৮ পয়েন্ট। তৃতীয় স্থানে থাকা মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং আরসিবি-র পয়েন্ট ৬। মুম্বই ৪টি ম্যাচ খেলে ওই পয়েন্ট পেয়েছে। আরসিবি তাদের সবক’টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে। শেষ চারটি স্থানে রয়েছে রাজস্থান রয়্যালস, কিংস ইলেভেন পঞ্জাব, সিএসকে এবং ডেকান চার্জার্স। রবিবার ডেকান চার্জার্সকে উড়িয়ে দেয় কেকেআর। প্রথমে ব্যাট করে ডেকান করে ১৫২ রান। এক ওভার বাকি থাকতে বিনা উইকেটে জয়ের রান তুলে ফেলে কেকেআর।

এখন পর্যন্ত ৬টি সেঞ্চুরি হয়েছে। সর্বোচ্চ রান আরসিবি-র মহম্মদ রাজের। ৬টা ম্যাচে তিনি করেছেন ৪৭০ রান। পঞ্জাবের বিকাশ প্রসাদ ১০টি উইকেট নিয়ে উইকেটশিকারীর তালিকায় এক নম্বরে। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছেন সিএসকে-র টুন্না সাউ। মেডেন ওভারও হয়েছে।

বাকি ম্যাচগুলিতে আরও অনেক চমকের অপেক্ষায় এসপিএল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement