শ্বাসরোধ করে মাকে খুন করে দেহ পুড়িয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার দায়ে ছেলেকে দোষী সাব্যস্ত করল শ্রীরামপুর আদালত। কোন্নগরের ক্রাইপার রোডের বাসিন্দা প্রতীক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজ, সোমবার সাজা শোনাবেন আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক উত্তম নন্দী।
গত ৪ জানুয়ারি ভোরে ক্রাইপার রোডের একটি নির্মীয়মাণ আবাসনের সিঁড়ির নীচ থেকে এক মহিলার অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। বছর তেতাল্লিশের ওই মহিলাকে খুনের অভিযোগে তাঁর ছেলে প্রতীককে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার সরকারি আইনজীবী জগৎজ্যোতি রায়চৌধুরী জানান, খুনের ঘটনাটি ঘটে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে। রূপালিদেবী মদ্যপান করতেন। ওই রাতে মায়ের মদের গ্লাসে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে দেয় প্রতীক। রূপালিদেবী আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে নাক-মুখে রুমাল চেপে ধরে প্রতীক তাঁকে মেরে ফেলে। এর পরে বারান্দায় দেহ প্লাস্টিক চাপা দিয়ে ফেলে রাখে। ৩ জানুয়ারি রাতে কেরোসিন ঢেলে দেহটি পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। ওই দিন একটি দোকান থেকে কেরোসিন কিনে আনে সে। পুলিশ তদন্তে নেমে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে। কী ভাবে সে গোটা ঘটনা ঘটিয়েছিল, তা অভিনয় করে দেখায় প্রতীক। ঘটনার সময় প্রতীকের বাবা বাড়িতে ছিলেন না।
তদন্তকারী অফিসার অর্ণব গঙ্গোপাধ্যায় ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। গ্রেফতার হওয়া ইস্তক প্রতীক জামিন পায়নি। দিন দশেক আগে বিচারক প্রতীককে দোষী সাব্যস্ত করেন। জগৎজ্যোতিবাবু বলেন, ‘‘প্রতীক তেমন কিছু করত না। মামলায় প্রমানিত হয়েছে, নানা প্রয়োজনে সে মায়ের কাছে টাকা চাইত। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হয়। তার জেরেই সে ওই ঘটনা ঘটায়।’’