প্রস্তুতিতে মগ্ন মহেন্দ্র। ছবি: তাপস ঘোষ।
জাতীয় পর্যায়ে সোনা জিতল সব্জি বিক্রেতার ছেলে।
কেরলে সদ্যসমাপ্ত জাতীয় স্কুল গেমসে ৬০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণ পদক পেল চন্দননগরের নাড়ুয়া শিক্ষানিকেতনের নবম শ্রেণির ছাত্র মহেন্দ্র সরকার। ভূমিপুত্রের এই সাফল্য উচ্ছ্বসিত গঙ্গাপাড়ের প্রাচীন শহর চন্দননগর। স্কুলের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে তাকে এলাকায় ঘোরানো হয়। সম্প্রতি চন্দননগরে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বছর কয়েক আগে রাজ্য এবং জাতীয় স্তরের স্কুল অ্যাথলেটিক মিটে নতুন রেকর্ড করে নজর কাড়েন তারকেশ্বরের দরিদ্র পরিবারের ছেলে চন্দন বাউরি। তার পরে সে অনেক সাফল্য পেয়েছে। চন্দনের পরে স্কুল অ্যাথলেটিকে হুগলি জেলাকে ফের গর্বিত করল মহেন্দ্র। চুঁচুড়ার আইমাডাঙায় চিটেবেড়ার দেওয়াল আর টালির ছাউনির বাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে মহেন্দ্র। বাবা রঞ্জিৎ সরকার হিন্দমোটর বাজারে সব্জি বিক্রি করেন। মা অলকাদেবী গৃহবধূ। পাঁচ বোন আর এক ভাইয়ের মধ্যে মহেন্দ্র ছোট। দিদিদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলেবেলা থেকেই সে চন্দননগর বয়েজ স্পোর্টিং ক্লাবে অনুশীলন করে। এই ক্লাবের কোচ পেশায় কর আদায়কারী কাশীনাথ অধিকারীই তার গুরু। কাশীনাথবাবুর পরামর্শে শুধুমাত্র অনুশীলনের সুবিধার জন্যই বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে নাড়ুয়া শিক্ষানিকেতনে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হয় মহেন্দ্র। তার বাবা-মা জানান, অনুশীলনে কখনও ফাঁকি দেয় না তাঁদের ছেলে। প্রতি দিন বাড়ি থেকে ২০ মিনিট সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যায়। কাশীনাথবাবু ছাড়াও স্কুলের ক্রীড়াশিক্ষক নিমাই বিশ্বাস তার দিকে নজর রাখেন।
জেলা স্কুল ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেরলের কালীকটে জাতীয় স্কুল গেমসের আসর বসেছিল। সেখানে বিভিন্ন ইভেন্টে বাংলা থেকে ৫৬ জন পড়ুয়া যোগ দেয়। মহেন্দ্র নেমেছিল ৬০০ মিটার দৌড়ে। ১ ফেব্রুয়ারি ওই ইভেন্টের ফাইনালে ১৯ জন প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে প্রথম হয় সে। সময় নেয় ১ মিনিট ২৭.৮২ সেকেন্ড। ওই প্রতিযোগিতায় বাংলার হয়ে সেই একমাত্র পদকজয়ী। এর আগে গত নভেম্বরে অনূর্ধ্ব ১৪ রাজ্য বিদ্যালয় ক্রীড়ায় পদক পেয়েছিল সে। কেরল থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাড়ি ফিরে রবিবার মোহনবাগান ক্লাবের বার্ষিক ক্রীড়াতে নেমেও সফল হয় এই স্কুল ছাত্র। এখানে ৮০০ মিটারে দ্বিতীয় এবং ২০০ মিটারে তৃতীয় হয়েছে সে।
মহেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে দেখতে চান কাশীনাথবাবু। এখন তাঁর ভাবনা, এ বার থেকে অনূর্ধ্ব ১৬ বিভাগে নামতে হবে তাঁর প্রিয় ছাত্রকে। এত দিন মহেন্দ্রের প্রিয় ইভেন্ট ছিল ৬০০ মিটার দৌড়। কিন্তু অনূর্ধ্ব ১৬ বিভাগে ৬০০ মিটার নেই। তাই তিনি পাখির চোখ করতে চাইছেন ৪০০ এবং ৮০০ মিটার দৌড়কে।
সিনেমার ক্ষিদ্দার মতোই তিনি আড়াল থেকে চিৎকার করে চলেছেন, ‘ফাইট’। তিনি জানেন, প্রাথমিক সাফল্যে মাথা ঘুরে হারিয়ে গিয়েছে এমন উদাহরণ অনেক বেশি।