কোথাও এক ডজন কাঁঠালি কলার দাম ৪০ টাকা। বেদানা বিকোচ্ছে ১৮০ টাকা কিলো দরে। আবার কোথাও একটি নারকেলের দাম হল ৩০-৩৫ টাকা। লক্ষ্মীপুজোর ঠিক আগে হাওড়া ও হুগলির বিভিন্ন বাজারে চড়চড়িয়ে বাড়ছে পুজোয় প্রয়োজনীয় ফলের দাম।
বিভিন্ন বাজার কমিটির সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, এ বার দুর্গাপুজো এবং লক্ষ্মীপুজোর মাঝে মহরম রয়েছে। তাই ফলের আমদানি অনেক কমে গিয়েছে। তাই বাড়ছে দাম। হুগলির চুঁচুড়ার খড়ুয়াবাজার, রবীন্দ্রনগর বাজার, সিঙ্গুর বাজার এবং চন্দননগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গিয়েছে, বেদানা বিকোচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকা কিলো দরে। আপেলের দাম ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকা কিলো পর্যন্ত ওঠানামা করছে। পেয়ারার কিলো ৬০ টাকা। শসা ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা কিলো। আঙুরের কিলো হল ২০০ টাকা। নাসপাতি বিকোচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কিলো দরে। খেজুরের দাম ৮০ টাকা কিলো। আনারসের দাম ৪০ টাকা কিলো। দরদাম করলেও কোনও ক্ষেত্রেই বিক্রেতারা দাম কমাতে চাইছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা। রাঙা আলুর দাম ৪০ টাকা কিলো। তরমুজ বিকোচ্ছে ৩০-৫০টাকা কিলো দরে। শাকাঁলুর দাম উঠেছে ৩০ টাকা কিলো পর্যন্ত। তবে হুগলির ফুলের বাজারের দাম তুলনায় কম। একটি গাঁদা ফুলের মালা বিক্রি হচ্ছে কমবেশি ৭ টাকা দরে। একটি রজনীগন্ধার মালা বিকোচ্ছে ৫ টাকায়। একটি জবা ফুলের মালার দাম কোথাও ১০ টাকা, আবার কোথাও ২৫ টাকা।
ফলের বাজারে একই ছবি দেখা গিয়েছে গ্রামীণ হাওড়ার উলুবেড়িয়া, বাগনান, শ্যামপুর, আমতা, ডোমজুড়-সহ বিভিন্ন বাজারে। দিন কয়েক আগেও এখানে আপেলের দাম ছিল ৬০ টাকা কিলো। কিন্তু লক্ষ্মীপুজোর ঠিক আগে সেই আপেল বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কিলো দরে। একই ভাবে কয়েক দিন আগে ২০০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হওয়া আঙুর এখন অনেক বাজারে এক কিলো ৩০০ টাকা করে হাঁকছেন বিক্রেতারা। বেদানা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা প্রতি কিলো দরে। যদিও কয়েক দিন আগেই বেদানার দাম ছিল ১০০ টাকা কিলো। কয়েক দিন আগে একটি আখের দাম ছিল ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা। পুজোর সময় সেই আখই বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। নাসপাতির দাম অবশ্য হুগলির বাজারের তুলনায় কম। ৮০ টাকা কিলো। যদিও কয়েক দিন আগেও এরই দাম ছিল কিলো প্রতি ৬০ টাকা। শাঁকালু বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কিলো দরে। বাঙালির প্রিয় জিনিস হল নারকেল নাড়ু। বিজয়া দশমীতে নারকেল নাড়ু তৈরি করে আত্মীয়দের উপহার হল হল বাঙালির অন্যতম রেওয়াজ। লক্ষ্মীপুজোর উপকরণেও নারকেল নাড়ুর প্রয়োজন। শনিবার হাওড়ার বিভিন্ন বাজারে একটি নারকেল বিক্রি হয়েছে ৩০-৩৫ টাকা দরে। বাজারে এসে অনেক ক্রেতাকেই ফল না কিনেই বাড়ি ফিরে যেতে দেখা গিয়েছে।
দাম যে বেড়েছে সেটা মানছেন বিক্রেতারা। খড়ুয়াবাজার এলাকার ফল বিক্রেতা সজল চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘অন্যান্য বারের তুলনায় এ বার ফলের দাম বেশি। কারণ মহরম থাকার জন্য আমদানি কম। বাজার অগ্নিমূল্য হওয়ায় ক্রেতারা কম পরিমাণে ফল কিনছেন। এর ফলে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে।’’
খোলাবাজারে ফলের এই অগ্নিমূল্যে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের দাবি, দাম নিয়ন্ত্রণে নজরদারি চালাক প্রশাসন।