মিষ্টি কিনতে। উলুবেড়িয়ার একটি দোকানে সুব্রত জানার ছবি।
আজ ভাইফোঁটা। ভাইদের মঙ্গল কামনা করে তাদের কপালে ফোঁটা দেবে বোনেরা। রীতি অনুযায়ী, ফোঁটার সঙ্গেই ভাইদের পাতে সাজিয়ে দেওয়া হবে পাঁচ রকম মিষ্টি। ভাইফোঁটা মানেই যেন মিষ্টির উৎসব। সেই উৎসবের দিন কয়েক আগেই বাড়তে শুরু করেছে ছানা ও মিষ্টির দাম।
সেই উৎসবে সামিল হতে অন্যান্য জেলার সঙ্গেই পসরা সাজিয়ে বসেছে ছোট বড় মিষ্টির দোকানগুলি। বুধবার রাত থেকে মিষ্টি তৈরির কারিগরদের হাঁফ ফেলার ফুরসত নেই। কোথাও সাবেকি রসগোল্লা, সন্দেশ, আবার কোথাও হাল আমলের ফিউশন মিষ্টি। বাতাসে এখন ঠান্ডার আমেজ। সেই কথা মাথায় রেখেই ফেলু মোদক এ বার নতুন গুড়ের সন্দেশ আর রাবড়ির উপর জোর দিয়েছে। এখানে মালাই রাবড়ি বিকোচ্ছে চারশো টাকা কেজিতে। সন্দেশ পাঁচশো টাকা কেজি। এছাড়াও রয়েছে গজা, লবঙ্গলতিকা, বালুসাই, চকোলেট সন্দেশ। দোকানের মালিক অমিতাভ দে জানালেন, ফিউশন মিষ্টিগুলির মধ্যে বাটার স্কচ সন্দেশের চাহিদা রয়েছে। দেদার বিকিয়েছে সুগার-ফ্রি মিষ্টি। যাঁরা দূরে থাকেন, তাঁদের জন্য ইন্টারনেটে অর্ডার নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল ফেলু মোদক। অমিতাভবাবুর দাবি, অন্তত ৭৫ জন খদ্দের এবার ইন্টারনেটের মাধ্যমে মিষ্টি কিনেছেন। ভাল ভিড় হয়েছে চুঁচুড়ার সূর্য মোদকের দোকানেও।
চুঁচুড়ার খাদিনা মোড়ের কাছের মিষ্টির দোকানগুলিতে সুগার-ফ্রি রসগোল্লা এবং রসভরা তালশাঁসের চাহিদা ছিল। দই কেনার জন্য ছিল লম্বা লাইন। কমলাভোগ, রাজভোগ, জুপিটার চমচমও ভালই বিকিয়েছে। এখানে অমৃত কুম্ভ, আম সন্দেশের দাম ৩৫ টাকা। ভাইফোঁটা স্পেশাল সন্দেশের দাম ছিল ১২ টাকা। ওই এলাকার একটি মিষ্টির দোকানের মালিক স্নেহাশিষ দাস বলেন, ‘‘চাহিদা অনুযায়ী নানা ধরণের মিষ্টি বানিয়েছি আমরা।’’
হাওড়ার বাগনানের একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানে একটি গোলাপজাম বিক্রি হয়েছে ১২ টাকায়, ক্ষীরমোহনের দাম ১০ টাকা। এখানে রাজভোগ, রসগোল্লা, ল্যাংচার দাম ৫ টাকা করে। এই মিষ্টির দোকানের অন্যতম মালিক মানস চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমাদের এলাকায় নিম্নবিত্ত পরিবারের বাস বেশি। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই মিষ্টির দাম বাড়ানো হয়নি।’’ বাগনানেরই অন্য একটি মিষ্টির দোকানে ভাইফোঁটার আগের দিন নলেন গুড়ের সন্দেশ এবং চকলেট সন্দেশ ১০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। এই দোকানটির তরফে শ্রীমন্ত হাইত বলেন, ‘‘আমরা প্রতি বছরই ভাইফোঁটার সময়ে বিভিন্ন স্বাদের মিষ্টি তৈরি করি। এ বারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।’’ ডোমজুড় পোস্ট অফিসের উল্টো দিকের একটি মিষ্টির দোকানে ভাইফোঁটার জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি করেছে লবঙ্গলতিকা এবং ক্ষীরকান্তি। দু’টি মিষ্টিরই দাম ১৫ টাকা। ডোমজুড় বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া একটি মিষ্টির দোকানে দেদার বিকোচ্ছে আম মিষ্টি এবং আপেল মিষ্টি। এগুলির দাম ২০ টাকা করে। ক্ষীরের কাটলেটের দাম ১০ টাকা। এই দোকানের অন্যতম মালিক সহদেব ঘোষ বলেন, ‘‘ভাইফোঁটা স্পেশ্যাল সন্দেশের দাম ১০ টাকা। আইসক্রিম সন্দেশ ১০ টাকা।’’
হুগলির আরামবাগে মঙ্গলবার পর্যন্ত ছানার দাম ছিল ২৪০ টাকা। কিন্তু বুধবার থেকে সেই দাম বেড়ে হয়েছে ৩০০ টাকা। আরামবাগ শহরের মিষ্টি ব্যবসায়ী অলোক কোলে জানান, এবার ভাইফোঁটার আগে ম্যাঙ্গোরোল, রায়পুর, জলভরা ইত্যাদি ক্ষীরের তৈরি মিষ্টির বিশেষ চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও রসগোল্লা, কালজাম, পান্তুয়া, চমচম, মৌচাক ইত্যাদির কদর তো আছেই।