ভদ্রেশ্বর

‘শ্লীলতাহানি’ দুই ছাত্রীর, প্রহৃত শিক্ষক

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভদ্রেশ্বর: স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির দুই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল ভদ্রেশ্বরের অ্যাঙ্গাস এলাকার খানপুকুরে। অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর শুরু করে জনতা। পুলিশ গিয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করতে গেলে জনতা পুলিশকে আক্রমণ করে। জনতার ছোড়া ইটের ঘায়ে পুলিশের গাড়ির কাচ ভাঙে। জখম হন দুই পুলিশকর্মী। শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের হটাতে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায়। পুলিশের উপরে হামলার অভিযোগে দু’ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Advertisement
শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:৩৬
Share:

পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর।

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভদ্রেশ্বর: স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির দুই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল ভদ্রেশ্বরের অ্যাঙ্গাস এলাকার খানপুকুরে। অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর শুরু করে জনতা। পুলিশ গিয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করতে গেলে জনতা পুলিশকে আক্রমণ করে। জনতার ছোড়া ইটের ঘায়ে পুলিশের গাড়ির কাচ ভাঙে। জখম হন দুই পুলিশকর্মী। শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের হটাতে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায়। পুলিশের উপরে হামলার অভিযোগে দু’ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় ওই প্রাথমিক স্কুলের হিন্দি বিভাগের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে ওই দুই শিশু। অভিযোগ, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্কুল ছুটির পর দুপুরেওই শিক্ষক দুই ছাত্রীকে ক্লাসের মধ্যে আটকে রেখে শ্লীলতাহানি করে এবং ঘটনার কথা কাউকে জানাতে নিষেধ করে। ওই দুই ছাত্রী প্রথমে ভয়ে কাউকে কিছু জানায়নি। গত বৃহস্পতিবার তারা বাড়ির লোকদের সমস্ত ঘটনা জানালে অভিভাবকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। শুক্রবার সকালে স্কুল চলাকালীন স্থানীয় কিছু উত্তেজিত জনতা স্কুলে ঢুকে অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে মারধর শুরু করে। এই ঘটনায় স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে চেঁচামেচি শুরু করে দেয়। চেঁচামেচি শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন। স্কুলের পক্ষ থেকে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করতে গেলে উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপর হামলা চালায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে শুরু হয় ইটবৃষ্টি। জনতার ছোড়া ইটে দুই পুলিশকর্মী জখম হন। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে। তাঁকে থানায় নিয়ে আসার সময় ফের জনতা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকে। তাতে পুলিশের গাড়ির কাচ ভাঙে। এরপর পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে জনতাকে হটিয়ে দেয়। পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।

পরিস্থিতি শান্ত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে দেন। ওই ছাত্রীদের পরিবারের পক্ষ থেকে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে এদিন সন্ধ্যায় গ্রেফতার করে। পুলিশের এক পদস্থ কর্তা জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

Advertisement

স্কুলের বাংলা মাধ্যম বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা করুণাময়ী গোপ বলেন, ‘‘আমাদের বাংলা মাধ্যম বেলায় শুরু হয়। হিন্দি মাধ্যমের ক্লাস সকালে শুরু হয়। স্কুলে আসার পর জানতে পারলাম যে একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলছে। কিন্তু আসল ঘটনা আমরা কিছুই জানি না। তবে এ ভাবে স্কুলে হামলার ঘটনা বাঞ্ছনীয় নয়।’’ হিন্দি মাধ্যমের প্রধান শিক্ষক বিজয় সিংহ বলেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনা কোনও শিক্ষকেরই শোভা পায় না। তবে এ ক্ষেত্রে ঠিক কি ঘটেছে তা তদন্ত সাপেক্ষ। পুলিশ তদন্ত করলেই আসল ঘটনা বেরোবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্কুলের পক্ষ থেকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement