আইসিএমআর-এর ডিজি রাজীব বহেল। —ফাইল চিত্র।
নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে খুব ভাল কাজ করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কলকাতায় এসে নিপা নিয়ে রাজ্য সরকারের কাজের প্রশংসা করলেন আইসিএমআর-এর ডিজি রাজীব বহেল। ওরাল ডিহাইড্রেশন থেরাপির জনক পদ্মবিভূষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক দিলীপ মহনালবিশের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনে বেলেঘাটায় আইসিএমআর-এনআইআরবিআইয়ে এসেছিলেন রাজীব। সেখানেই তিনি নিপা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাজের প্রশংসা করেছেন।
রাজীব জানিয়েছেন, ২০০১, ২০০৭ সালে নিপার সংক্রমণ হয়। তবে এটি যে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ— এটা বলা ঠিক নয়। কেরলেও নিপার সংক্রমণ হয়েছিল। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্তের সংখ্যাটা ছিল খুবই কম। ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গেও নিপার সংক্রমণ ছড়িয়েছিল। সেই সময় কেরলে নিপার সংক্রমণ ছড়ায়। কখনও একটি, কখনও দু’টি। তবে পশ্চিমবঙ্গে বেশি সংক্রমণ হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে ভাবে এই সংক্রমণ ঠেকাতে তৎপর হয়েছিল এবং পদক্ষেপ করেছিল, তা প্রশংসনীয়।
রাজীব আরও জানিয়েছেন, নিপা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে প্রথম থেকেই সতর্ক থাকলে এই ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব। তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও উত্তরপ্রদেশে, বিহার, ছত্তীসগঢ় এবং কেরলে বাদুড়ের মধ্যে নিপা ভাইরাসের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে নিপায় আক্রান্ত হন দুই নার্স। তাঁদের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। বারাসতের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, দীর্ঘ দিন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি ছিলেন। তাঁর ফুসফুসে ‘সেকেন্ডারি ইনফেকশন’ হয়ে গিয়েছিল বলে খবর। নিপায় আক্রান্ত আরও এক জন নার্স বারাসতের হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, রাজ্যে নতুন করে কেউ নিপায় আক্রান্ত হননি। আক্রান্ত দুই নার্স গত কয়েক দিনে কোন কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন, তা জানতে ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’-এর কাজ শুরু হয়েছিল। সমস্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তাঁদের নমুনা পাঠানো হয়েছিল পরীক্ষাগারে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ওই সব নমুনা পরীক্ষার পর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। অর্থাৎ, এখনও পর্যন্ত কারও শরীরে নিপা ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলেনি।