—ফাইল চিত্র।
রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা সংক্রান্ত ধন্যবাদজ্ঞাপন প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনার জন্য তৃণমূলের বরাদ্দ ৫৬ মিনিট। ওই একই সময়সীমা রয়েছে বাজেট সংক্রান্ত আলোচনায়। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই বাজেট অধিবেশন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কাছে। ধন্যবাদজ্ঞাপক বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে ব্যর্থতা এবং বাংলার প্রতি বঞ্চনাকে মুখ্য বিষয় হিসাবে রাখতে চাইছে তৃণমূল। তবে লোকসভায় দলের প্রবীণ বা অভিজ্ঞ সাংসদরা নন, বক্তৃতার ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাচ্ছেন নবীন শক্তি অর্থাৎ প্রথম বারের সাংসদরা। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, কাকলি ঘোষদস্তিদার, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্রদের বদলে বেছে নেওয়া হয়েছে শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া এবং সায়নী ঘোষকে। বাজেট বক্তৃতায় অবশ্য প্রধান বক্তা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের নির্ধারিত সময়ের বাকি অংশের পাদপূরণ করবেন কল্যাণ।
তৃণমূলের লোকসভার প্রাক্তন দলনেতা সুদীপের প্রায় এক বছর পর সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা। দীর্ঘ দিনের অসুস্থতা কাটিয়ে তিনি আসছেন। সৌগত রায়ও সম্প্রতি অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ছিলেন। তবে কিছু দিন আগেও দলের যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বলতে দেখা যেত সুবক্তা সৌগতকে। এ বার তার ব্যতিক্রম ঘটছে। তৃণমূলের লোকসভার নেতা অভিষেকের কথামতো মুখ্য আহ্বায়ক কাকলি ঘোষ দস্তিদার বক্তাদের তালিকা দলকে প্রাথমিক ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। তবে যেহেতু দু’টি বিষয় নিয়েই দীর্ঘ সময় (১৮ ঘণ্টা করে) আলোচনা হবে, তাই তৃণমূলে বক্তার সংখ্যা বাড়লেও বাড়তে পারে বলে খবর।
কাকলির কথায়, “নতুনরাও বলুক সেটা আমরা চাইছি। তাঁদেরও সংসদীয় বক্তৃতায় দক্ষ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে জুন ও সায়নী আগের অধিবেশনেই বলার সুযোগ চেয়েছিল, তখন সময় দেওয়া যায়নি। তাই ওঁরা এ বার বলবেন। আমি নিজে অত্যন্ত ব্যস্ত রয়েছি রাজ্যে। এসআইআর সংক্রান্ত একটি তালিকা দলের পক্ষ থেকে তৈরির কাজ চলছে বিভিন্ন সেন্টারে। আমাকে আর বাপী হালদারকে জেলা সভাপতি হিসাবে ঘুরে ঘুরে দেখতে হচ্ছে নিজ নিজ এলাকা। আর সুদীপদা এবং সৌগতদা অসুস্থ ছিলেন। তাঁদের পক্ষে আলোচনায় সক্রিয় অংশ নেওয়া সম্ভব নয়।” সৌগত বলেন, “আমার এখন যা বয়স তাতে নিজে থেকে কিছু চাওয়ার নেই। দল বলতে বললে বলব, না হলে বলব না। কোনও সমস্যা নেই।”
সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেই তৃণমূলের লোকসভার সাংসদদের একাংশের মধ্যে পারস্পরিক ক্ষোভ, বাদানুবাদ প্রকাশ্যে এসেছিল। অধিবেশন চলাকালীনও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। তৃণমূলের সংসদীয় অফিসেও সেই ক্ষোভের নিদর্শন দেখা গিয়েছে। গত ১৭ ডিসেম্বর সংসদীয় দলের সঙ্গে বৈঠকে বসে, রীতিবিরুদ্ধ আচরণ করার অভিযোগ ওঠা সাংসদদের কড়া ভাষায় সতর্ক করেছিলেন অভিষেক।
কালই দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি এসেছেন। রবিবার বাজেট অধিবেশনে থাকবেন তিনি। রবিবার দিল্লি আসার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এসআইআর-এর নামে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিয়ে আগামী সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের পূর্ণ বেঞ্চের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে