(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিভি আনন্দ বোস (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দফতর বিজয় দুর্গ (ফোর্ট উইলিয়াম)-এর এক সেনা আধিকারিককে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তীব্র আপত্তি জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের দ্বারস্থ হয়েছে সেনাবাহিনী। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিজেপি-কে সাহায্য করার অভিযোগে নাম না করে এক সেনা আধিকারিককে জড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছে তারা। সেই কারণেই রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ চেয়ে লোক ভবনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রাজ্যপালের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে ফোর্ট উইলিয়াম থেকে দুই জন শীর্ষ সেনা জেনারেল রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন এবং বিষয়টির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। লোক ভবনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, কোনও কর্মরত সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ তোলা সেনার মর্যাদা ও নিরপেক্ষতার ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করে বলে উষ্মাপ্রকাশ করা হয়েছে। যদিও বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি, তবে রাজ্যপাল যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে এনেছেন, তা নিশ্চিত করেছে লোক ভবন। এক আধিকারিকের কথায়, “ফোর্ট উইলিয়ামে কর্মরত এক কমান্ড্যান্ট বিজেপি-র হয়ে কাজ করছেন— এমন মন্তব্যে সেনা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তাঁরা রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।”
উল্লেখ্য, ১৩ জানুয়ারি নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ফোর্ট উইলিয়ামের এক কমান্ড্যান্ট সেখানে বসে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়ে বিজেপি-কে সাহায্য করছেন। তিনি বলেছিলেন, “আমার কাছে তথ্য আছে, ফোর্ট উইলিয়ামের এক কমান্ড্যান্ট এসআইআর নিয়ে কাজ করছেন বিজেপির হয়ে। তিনি সেখানে বসে বিজেপি পার্টি অফিসের কাজ করছেন। হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, এই ধরনের কাজ বন্ধ করুন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই সেনামহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সেনাবাহিনীর শীর্ষস্তর মনে করছে, নির্দিষ্ট কোনও তথ্য বা প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ও সাংবিধানিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।
ফোর্ট উইলিয়ামের এক সিনিয়র কর্তা পিটিআই-কে বলেছেন, “আমাদের দুই জন অফিসার সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপালের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে কথা বলেছেন। রাজ্যপাল আশ্বাস দিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।” ভোটমুখী বাংলায় নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে যখন তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতর চরমে, ঠিক সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য নতুন করে প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক উসকে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।