বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে এক হোটেলের বাইরে রাজ্য পুলিশের ডিআইজি (নিরাপত্তা) সুমিত কুমার। ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
সল্টলেক সেক্টর ফাইভের এক হোটেলে তখন বৈঠক চলছে রাজ্য বিজেপির। বৈঠকের নেতৃত্বে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা। ঠিক সেই সময়েই আচমকা হোটেলে হাজির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য। আইপিএস সুমিত কুমার। তিনি রাজ্য পুলিশের ডিআইজি (নিরাপত্তা) পদে রয়েছেন। নড্ডার বৈঠকস্থলে হঠাৎ এই আগমনে কেন? জানতে চাইলে উত্তর এল, “একজনকে খুঁজতে এসেছিলাম!” সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়েই হোটেল থেকে বেরিয়ে যান তিনি, যা কৌতূহল নিবৃত্ত করার বদলে আরও বাড়িয়ে দিল।
নড্ডার বৈঠকস্থলে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনীর কোনও সদস্যের এমন আকস্মিক আগমন যে কোনও দিনেই কৌতূহল বৃদ্ধি করার জন্য যথেষ্ট। বৃহস্পতিবার তো তা আরও বেশি করে। কারণ, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং তাঁর সল্টলেকের দফতরে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। আইপ্যাক বর্তমানে তৃণমূল এবং রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা। ইডি হানার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা স্বয়ং পৌঁছে যান দু’জায়গাতেই। প্রথমে প্রতীকের বাড়িতে। পরে সেক্টর ফাইভের দফতরে। মমতা জানান, তিনি সেখানেই অপেক্ষা করবেন। যখন আইপ্যাক দফতরে মুখ্যমন্ত্রী অপেক্ষা করছেন, ঠিক সেই সময়েই নড্ডার হোটেলে আচমকা হাজির হন তাঁর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আইপিএস।
সল্টলেকে আইপ্যাক-এর দফতর যে বহুতলে, সেখান থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে নড্ডাদের বৈঠকস্থল। বৃহস্পতিবার সকালেই সাংগঠনিক কর্মসূচিতে ঝটিকা সফরে কলকাতায় এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। দুপুরে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের ওই হোটেলে নড্ডাদের বৈঠক চলছিল। বৈঠকে নড্ডার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলা সভাপতি এবং সাংগঠনিক বিভাগের আহ্বায়কেরাও ছিলেন। ঠিক সেই সময়েই হোটেল চত্বরে হাজির হন ডিআইজি (নিরাপত্তা)।
এমন একটি দিনে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় যুক্ত থাকা পুলিশকর্তাকে ওই হোটেল চত্বরে দেখামাত্রই কৌতূহল দানা বাঁধতে শুরু করে। হোটেলের যে সম্মেলনকক্ষে নড্ডাদের বৈঠক চলছিল, সেই দিকের করিডরের কাছাকাছি পৌঁছে যান তিনি। তাঁকে নড্ডাদের বৈঠকস্থলের দিকে এগোতে দেখেই সংবাদমাধ্যম ছুটে যায়। ঠিক সেই সময়েই পিছন ঘুরে উল্টো দিকে হাঁটতে শুরু করেন তিনি। যে পথে হোটেল চত্বরে প্রবেশ করেছিলেন, সেই পথ দিয়েই আবার বেরিয়ে যান। কেউ কেউ অনুমান করছেন, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা দেখেই হোটেল চত্বর থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
হোটেল চত্বর থেকে বেরিয়ে গাড়ি আসার জন্য অপেক্ষা করছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্তা। সেখানেই সাংবাদিকেরা তাঁর কাছে জানতে চান, ওই হোটেলে কেন এসেছেন। প্রশ্নের উত্তরে আইপিএস কর্তা বলেন, “একজনকে খুঁজতে এসেছিলাম।” এটুকু বলেই গাড়িতে উঠে চলে যান তিনি।
ডিআইজি (নিরাপত্তা) সুমিতের হোটেল চত্বরে যাওয়ার কথা তত ক্ষণ চাউর হয়ে যায়। কৌতূহলী হয়ে ওঠেন বিজেপির নেতা-কর্মীরাও। বিজেপির যে নেতারা তখন বৈঠককক্ষের বাইরে ছিলেন, তাঁরাও খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। বিজেপির যে প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রীরা বৈঠককক্ষের ভিতরে রয়েছেন, তাঁদের আপ্তসহায়কেরাও চলে আসেন বাইরে। তাঁরাও খোঁজখবর নিতে থাকেন। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। আইপিএস কর্তার এই আচমকা আগমন এবং প্রস্থানের বিষয়ে খবর যায় নড্ডার বৈঠককক্ষের ভিতরেও।