জমিয়তের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।
রাজ্যে কয়েক দিন পরেই শুরু হচ্ছে বিজেপির রথযাত্রা। তার আগে কলকাতায় সংখ্যালঘুদের বড় সমাবেশ করে বিজেপিকে বার্তা দিল জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী এবং জমিয়তের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী সেই সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দিলেন, সংবিধানে স্বীকৃত অধিকার এবং সম্প্রীতির বাতাবরণ ধ্বংসের চেষ্টা হলে কড়া প্রতিবাদ হবে। সম্প্রীতি রক্ষা করাই যে বাংলার বরাবরের ঐতিহ্য, তা-ও স্মরণ করিয়ে দিলেন জমিয়তের নেতৃত্ব।
প্রতি শীতেই শহরে কেন্দ্রীয় সমাবেশের আয়োজন করে জমিয়তে। রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে মঙ্গলবারের সমাবেশে ভিড় হয়েছিল বিপুল। নানা জেলা থেকে বাস ও ম্যাটাডোর বোঝাই হয়ে আসা সমর্থকদের জমায়েত এক দিকে ডোরিনা ক্রসিং এবং অন্য দিকে মেয়ো রোডের মুখ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। যার জেরে মধ্য কলকাতায় এ দিন দুপুরে প্রভাব পড়েছিল যান চলাচলে। ভিড়ে ঠাসা এই সমাবেশ থেকেই সিদ্দিকুল্লা ঘোষণা করেছেন, ‘‘২০১৯ সালে আমরা ব্রিগে়ডে সমাবেশ করব।’’ পরে তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলের মতো লোকসভা ভোটের আগে ব্রিগে়ড সমাবেশের পরিকল্পনা তাঁদের নেই। আগামী বছরের শেষ দিকেই তাঁরা ব্রিগেডে সভা করতে চান।
উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের ঘটনা উল্লেখ করে জমিয়তের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মেহমুদ মাদানি, রাজ্য সম্পাদক আব্দুল সালাম বলেন, আগুন জ্বালানোর পরিণাম কখনও ভাল হবে না। প্ররোচনায় পা না দিয়ে সব ধর্মের, সব মতের মানুষের মিলে-মিশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরবর্তী ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সিদ্দিকুল্লা বলেন, ২৬ বছর আগে সেই সময়ে দেশের অন্যান্য জায়গায় যে ভাবে অশান্তি ছড়়িয়েছিল, এখানে তা হয়নি। সরকার সতর্ক ছিল, সব ধরনের মানুষও শান্তি বজায় রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। বাংলার এই ঐতিহ্যই বজায় রাখার ডাক দেওয়ার পাশাপাশিই তাঁর মন্তব্য, ‘‘রথযাত্রার নামে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা হলে প্রশাসন তার মোকাবিলা করবে। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি দেখছেন। আর আমরা বলছি, বাইরে থেকে কেউ আসতেই পারেন, তবে বাংলার মহিলারা ঝাঁটা দেখিয়ে স্বাগত জানাবেন!’’