পশ্চিমবঙ্গে এখনও ‘বিবেচনাধীন’ ৬০ লক্ষ ভোটার। —ফাইল চিত্র।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজের জন্য বিচারক চাওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী দু’টি রাজ্য থেকেই আপাতত ১০০ জন করে বিচারক আসছেন পশ্চিমবঙ্গে। এসআইআর-এর তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়গুলি তাঁরা বিবেচনা করে দেখবেন এবং নিষ্পত্তি করবেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, আগামী ৭ মার্চ ভিন্ রাজ্যের ২০০ জন বিচারক পশ্চিমবঙ্গে আসবেন। দু’দিন তাঁদের প্রশিক্ষণ হবে। তার পর ৯ মার্চ থেকে তাঁরা কাজ শুরু করবেন।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সব ঠিক থাকলে ৯ মার্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর কাজ করবেন মোট ৭৩২ জন বিচারক। ভিন্ রাজ্যের বিচারকদের থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে কলকাতা বিমানবন্দর, শিয়ালদহ এবং হাওড়া স্টেশন লাগোয়া এলাকায়। এ ছাড়া, বর্ধমান, আসানসোল, খড়্গপুর এবং শিলিগুড়িতেও বিচারকেরা থাকবেন।
এসআইআর-এর তথ্যগত অসঙ্গতির নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে রাজ্য এবং কমিশনের সংঘাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তার পরেই বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপের কথা বলা হয়। আদালত জানিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের তথ্যগত অসঙ্গতির নিষ্পত্তি করবেন কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারক এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদেরও নিয়োগ করা যাবে এই কাজে। সেই মতো হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল রাজ্য প্রশাসন এবং কমিশনের কর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। এসআইআর-এর কাজের জন্য বিচারক নিয়োগ করেন। পরে চাহিদা অনুযায়ী ভিন্ রাজ্য থেকেও বিচারক মোতায়েন করা যাবে বলে জানায় সুপ্রিম কোর্ট। তার পরেই দু’টি রাজ্য থেকে ১০০ জন করে বিচারক চেয়ে পাঠানো হয়েছিল। কমিশন সূত্রে খবর, প্রয়োজনে পরে এই দুই রাজ্য থেকে আরও বিচারক চাওয়া হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর প্রথম পর্বের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকা এখনও অসম্পূর্ণ। প্রাথমিক ভাবে ৬০ লক্ষ ভোটার এখনও রয়েছেন ‘বিবেচনাধীন’ হিসাবে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। তার আগে এই ৬০ লক্ষের নিষ্পত্তি হবে কি না, যদি না হয় তবে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে এসেছে। দিকে দিকে তারা রুটমার্চ করছে। আগামী ৮ মার্চ রাজ্যে চলে আসছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ।