গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কলকাতা হাই কোর্টে শুক্রবার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর হয়ে সওয়াল করেন সিপিএমের আইনজীবী নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তার পর দিনভর তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলেছে। সন্ধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে নাম না-করে বিকাশকে বিঁধলেন তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা জবাব দিলেন বিকাশও।
নির্বাচনী হলফনামা সংক্রান্ত একটি মামলা নিয়ে অদিতি-দেবরাজের হয়ে সওয়াল করেন বিকাশ। সমাজমাধ্যমে কল্যাণ লিখেছেন, ‘এক জন প্রাজ্ঞ আইনজীবী, যিনি নিজেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তুলে ধরতে চান, তিনি সওয়াল করলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক এবং তাঁর স্বামীর হয়ে। যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।’
এখানেই থামেননি কল্যাণ। ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের প্যানেল বাতিলের মামলায় বিকাশের সওয়ালের প্রসঙ্গ তুলেও খোঁচা দিয়েছেন তিনি। তৃণমূল সাংসদের দাবি, ‘ওই’ আইনজীবী পেশাকে ‘ঢাল’ হিসাবে ব্যবহার করে এক এক ক্ষেত্রে এক এক রকম অবস্থান নিচ্ছেন। কল্যাণের বক্তব্যে দু’টি বিষয় রয়েছে। এক, অদিতিদের হয়ে বিকাশের সওয়াল করা এবং দুই, অদিতিদের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তা-ও ঠারেঠোরে বলে দেওয়া।
পাল্টা বিকাশের যুক্তি, তিনি যে মামলাটিতে সওয়াল করেছেন, তার সঙ্গে দুর্নীতির কোনও সম্পর্কই নেই। রাজ্যসভার প্রাক্তন সিপিএম সাংসদের কথায়, ‘‘এই মামলার সঙ্গে তো দুর্নীতির কোনও যোগ নেই। নির্বাচনী হলফনামায় একটি ত্রুটি ছিল। সেই সংক্রান্ত মামলায় সওয়াল করেছি।’’
প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক এবং তাঁর স্বামীর হয়ে বিকাশের সওয়াল নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে সিপিএমের অন্দরেও। যেমন কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়া দলের এক শীর্ষ সারির নেতার বক্তব্য, ‘‘এই সময়ে এই মামলায় বিকাশদা না-জড়ালেই পারতেন!’’ অন্য এক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যের আবার বক্তব্য, ‘‘আমি বিকাশদাকে যত দূর চিনি, তাঁর প্রকৃতি সম্পর্কে যত দূর জানি, তাতে এইটুকু বলতে পারি, দুর্নীতির গন্ধ থাকলে তিনি মামলা নিতেনই না।’’
বিকাশের সওয়াল নিয়ে বাম মহলে বিতর্ক নতুন নয়। অধুনা প্রয়াত মুকুল রায় বিজেপিতে থাকার সময়ে, তাঁর হয়ে একটি মামলায় সওয়াল করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি ২৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের মামলাতেও দলের ছাত্র-যুব সংগঠনের সঙ্গে তাঁর মত ছিল ভিন্ন মেরুতে। সেই পর্বে সিপিএমের বক্তব্য ছিল, পুরো প্যানেল বাতিল না-করে চাল আর কাঁকর আলাদা করতে হবে। বিকাশের বক্তব্য ছিল, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হলে তা সম্ভব হয় না। শেষ পর্যন্ত পুরো প্যানেল বাতিলেরই নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।