Women Safety

নারী নিরাপত্তায় শীর্ষে কলকাতা, দিল্লি অপরাধ-হারে

জাতীয় ক্রাইম রেকর্ড বুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ১৯টি বড় শহরের মধ্যে মহিলাদের উপর অপরাধের প্রশ্নে শীর্ষ রয়েছে দিল্লি (১৩,৩৯৬)। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুম্বই (৬,৩৫৮)।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ০৭:৩৯
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

দু’বছর আগে আর জি কর ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। অথচ জাতীয় ক্রাইম রেকর্ড বুরোর ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান বলছে, সে বছরে দেশের মধ্যে সবথেকে নিরাপদ শহর ছিল কলকাতাই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সে বছর কলকাতায় মাত্র বারোটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল, যার মধ্যে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা ঘটে মাত্র একটি ক্ষেত্রে।

জাতীয় ক্রাইম রেকর্ড বুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ১৯টি বড় শহরের মধ্যে মহিলাদের উপর অপরাধের প্রশ্নে শীর্ষ রয়েছে দিল্লি (১৩,৩৯৬)। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুম্বই (৬,৩৫৮)। সেখানে কলকাতায় ২০২৪ সালে মহিলাদের উপর অপরাধের সংখ্যা ১,৯৫৮। গোটা রাজ্যে অবশ্য মহিলাদের উপর হওয়া ৩৪,৩৬০টি অভিযোগ সে বছর দায়ের করেছিল পুলিশ। ওই বছরে দেশের ১৯টি শহরে চার হাজারের কাছাকাছি মহিলা ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত করেছিলেন। ওই অপরাধের সিকি ভাগই ঘটেছিল শুধু রাজধানী দিল্লিতে (১,০৮৯)। আর জি করের ঘটনার বছরে কলকাতায় ধর্ষণের ঘটনা ১২টি হলেও গোটা রাজ্যে সেই সংখ্যা ছিল ১,১১৮টি। যার মধ্যে ৯৪৯টি ঘটনায় অপরাধী নির্যাতিতার পরিচিত ছিল। ৫১টি ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরাই নির্যাতনের পিছনে ছিল বলে জানিয়েছে পরিসংখ্যান। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবি, ওই বছর নির্যাতিতারা সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। রাজ্যে অ্যাসিড আক্রমণের ঘটনা ঘটে ত্রিশটি।

ওই বছরে শ্লীলতাহানির ঘটনায় সব শহরকে ছাপিয়ে গিয়েছে বেঙ্গালুরু (৯০১)। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে ৭৯টি শ্লীলতাহানির ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। তবে ধর্ষকাম (ভয়ারিজ়ম) বা লুকিয়ে ছবি তোলার প্রশ্নে গোটা দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। ২০২৪ সালে ৩৯টি এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। শীর্ষে রয়েছে মুম্বই (৭১)। পণজনিত কারণে ২০২৪ সালে কলকাতায় ১১টি ও গোটা রাজ্যে ৩৫৪টি মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। ওই তালিকায় শহরগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে দিল্লি (১১১) এবং তার পরে পটনা (৩০)। পণজনিত হত্যায় রাজ্যগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে যোগী আদিত্যনাথ-শাসিত উত্তরপ্রদেশ (২০৫৭)।

জোর করে মেয়েদের তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ের করার ৭৫৭টি ঘটনার মধ্যে শুধু পটনাতেই ৪৩৯টি ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে ২১০ জনই নাবালিকা। কলকাতায় এমন ৬টি এবং গোটা রাজ্যে এমন মোট ১৯২টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। অন্য দিকে নাবালিকাকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যের ১৬টি ঘটনার মধ্যে ১৩টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে কলকাতা পুলিশে। যা দেশে সর্বোচ্চ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে বলা হয়েছে, এই সব পরিসংখ্যানই রাজ্য সরকারগুলি কেন্দ্রকে পাঠায়। তাদের বক্তব্য, অভিযোগ নথিভুক্ত করার প্রশ্নে কিছু রাজ্যের নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। কিছু রাজ্য পরিসংখ্যান কম দেখিয়ে অপরাধের প্রশ্নে তারা অন্যদের থেকে ভাল পরিস্থিতিতে রয়েছে, এমন প্রচার করে আত্মশ্লাঘা বোধ করে। কিন্তু অপরাধ চেপে যাওয়ার ওই প্রবণতার ফলে সেই রাজ্যে বা শহরে প্রকৃত কত অপরাধ হচ্ছে, তা জানার সুযোগ থাকে না। তেমনই উত্তরপ্রদেশ বা দিল্লি পুলিশে অনলাইনের মাধ্যমে, পুলিশ কিয়স্কের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করার সুবিধা থাকায় আমজনতার মধ্যে অভিযোগ দায়ের করার প্রবণতা বাড়ছে। এ ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রশ্নে অনেক রাজ্যই পিছিয়ে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন