বাবা ছিলেন রেলের কর্মী। সেই সুবাদে প্রশাসন থেকে রেলের হাসপাতাল— সর্বত্রই ছিল অবাধ যাতায়াত। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রেলে চাকরি দেওয়ার নাম করে লোক ঠকানোর কারবার ফেঁদে বসেছিল বৈষ্ণবঘাটা-পাটুলির বাসিন্দা সুমন দত্ত। ভালই জমে উঠেছিল জালিয়াতির ব্যবসা।
কিন্তু রেলেরই কর্মীদের কাছে নিজেকে ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ট্রাফিক সার্ভিস’ (আইআরটিএস)-এর অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনল সে। ধরা পড়ে গেল রেলের গোয়েন্দাদের হাতে। শুধু তা-ই নয়, ওই যুবক বলেছিল, সে মেটাল পাসের অধিকারী। মেটাল পাস সাধারণত রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দেওয়া হয়। এ ছাড়া, রেল কর্তৃপক্ষ মনে করলে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও ওই পাস দিতে পারেন। মেটাল পাসে রেলের টিকিট কাটতে কোনও টাকা লাগে না। ওই পাসের গপ্পো শোনার পরেই রেলের জালিয়াতি দমন শাখার অফিসারেরা সুমনের খোঁজ শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার খবর আসে, এক মহিলা সঙ্গীকে নিয়ে পুরী থেকে শতাব্দী এক্সপ্রেসে হাওড়ায় আসছে ওই যুবক। খবর পেয়েই সেখানে ওত পেতে ছিলেন রেলের গোয়েন্দারা। সুমন হাওড়া স্টেশনে নামতেই তাকে ধরে ফেলেন তাঁরা। তাকে রেল পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জালিয়াতি দমন শাখার অফিসারেরা জানিয়েছেন, কিছু দিন আগে সুমন গার্ডেনরিচ রেল হাসপাতালে তার মায়ের চিকিৎসা করাতে এসেছিল। তখন হাসপাতালেরই কয়েক জন চিকিৎসকের কাছে রেলের পার্সোনেল অফিসার হিসেবে নিজের পরিচয় দেয়। সেখানে এক কর্মীকে জানায়, তার কাছে মেটাল পাসও আছে। হাবভাব দেখে ওই কর্মীও সুমনের খপ্পরে পড়ে যান। ওই রেলকর্মীর বোনকেও সুমন চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেয়। বদলে ওই কর্মীর থেকে কিছু টাকাও আদায় করে। তার পরে মা সুস্থ হয়ে উঠলে বেপাত্তা হয়ে যায়।
জালিয়াতি দমন শাখার অফিসারেরা জানান, রেল হাসপাতালের সূত্র ধরে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক মহিলা কর্মীকে সুমন বিয়ের প্রস্তাবও দেয়। তার পরে তাঁকে ঘোরাঘুরিও শুরু করে। তার মধ্যেই আরও পাঁচ-ছ’টি প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়ে অফিসারদের কাছে। ওই সব অভিযোগ যার বিরুদ্ধে, সে যে সুমন, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি গোয়েন্দাদের। তার পরেই তার খোঁজ শুরু করেন তাঁরা।
ধৃত সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জেনেছে, চাকরি দেওয়ার নাম করে সে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু লোকজনের কাছ থেকে প্রচুর টাকা আদায় করেছে। তবে তার কাছে কোনও মেটাল পাস মেলেনি।
অন্য দিকে, একই ভাবে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হল এক। পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভবানীপুর থেকে ধরা হয় শঙ্কর চক্রবর্তী নামে ওই ব্যক্তিকে। ফেব্রুয়ারিতে বাবলু দে অভিযোগ করেন, মেট্রোর আধিকারিকের পরিচয়ে শঙ্কর তাঁর থেকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে জাল নিয়োগপত্র দিয়েছিলেন।