দু’জনকে জেরা করে আপাতত দু’টি চোরাই মোটরবাইক উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পরপর রাখা মোটরবাইক। ফুটপাতের ধারে রাখা বাইকগুলির কিছুটা দূরে ঘোরাঘুরি করছেন দু’জন। হঠাৎ তাঁরা দেখলেন, এক যুবক একটি মোটরবাইক থেকে নেমে পার্কিং লটের কাছে দাঁড়াল। দু’পাশে দেখে নিয়ে একটি মোটরবাইকের লক খোলার চেষ্টা শুরু করল। তা দেখে ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের মধ্যে কিছু ইশারা করে যুবকের পাশে এসে দাঁড়িয়ে পড়লেন। যুবক কিছু বোঝার আগেই তাকে ধরে একটি গাড়িতে তুললেন তাঁরা। ওই যুবককে পাকড়াও করতেই তার অপেক্ষারত সঙ্গী মোটরবাইক আরোহী এলাকা ছেড়ে পালাল।
পুলিশ জানায়, ওই দুই ব্যক্তি রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশকর্মী। গত শনিবার তাঁরা সাফারি পার্কের কাছ থেকে ওই যুবককে পাকড়াও করেছেন বাইক চুরির অভিযোগে। ধৃতের নাম সন্দীপ সাধুখাঁ। বাড়ি টালিগঞ্জ থানা এলাকায়। তাকে জেরা করে মঙ্গলবার রাতে বাইক চুরি চক্রের আর এক সদস্য সৌম্যদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার সে-ই পালিয়ে গিয়েছিল। দু’জনকে জেরা করে আপাতত পুলিশ দু’টি চোরাই মোটরবাইক উদ্ধার করেছে। ধৃতদের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর আদালত। সন্দীপ পুলিশের কাছে দাবি করেছে, সে একটি কলেজের স্নাতক স্তরের পড়ুয়া। পাশাপাশি, ধৃতেরা বিভিন্ন অনলাইন সংস্থার সার্ভিস বয়ের কাজও করে বলে জানায় পুলিশ।
লালবাজারের একটি সূত্রের খবর, গত দেড় মাসে রবীন্দ্র সরোবর এলাকা থেকে পাঁচটি মোটরবাইক চুরি যায়। বেশির ভাগই সরোবর সংলগ্ন সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের কাছ থেকে। এর মধ্যে কালীপুজোর পরে একই দিনে চুরি যায় দু’টি বাইক। একটি সাফারি পার্কের কাছ থেকে, অন্যটি বিবেকানন্দ পার্কের সামনে থেকে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ তদন্তে বেশ কিছুটা অগ্রসর হলেও দুষ্কৃতীদের কোনও হদিস পাচ্ছিল না। এর পরেই রবীন্দ্র সরোবর থানার তরফে ওই এলাকায় সাদা পোশাকের পুলিশকর্মী মোতায়ন করা হয়। নজরদারি চালাতে গিয়েই শনিবার ধরা পড়ে সন্দীপ।
তদন্তকারীরা জানান, ধৃতেরা মোটরবাইক চুরি করে প্রথমে নিয়ে যেত টালিগঞ্জ এলাকার রেললাইনের ধারে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে। সেখানে নম্বর প্লেট বদলে তারা ক্যুরিয়র বা অনলাইন সার্ভিস বয়দের কাছে কম দামে তা বিক্রি করে দিত। ধৃতেরা ইতিমধ্যেই পাঁচটি চুরির ঘটনা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের।