নিউ টাউন এবং ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস সংযোগকারী উড়ালপথ (এলিভেটেড করিডর) প্রকল্প আবার আলোচনায় উঠে এল এক দশক পরে। সোমবার রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে ওই প্রকল্পের জন্য ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ৭.৪১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘চিংড়িঘাটা-নিউ টাউন এলিভেটেড করিডর’। ওই উড়ালপথ ই এম বাইপাস, সল্টলেকের পাঁচ নম্বর সেক্টর ও নিউ টাউনের মধ্যে যোগাযোগ সাধন করবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে দশ-বারো বছর আগে ওই যোগাযোগের পথ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রকল্পের নির্মাণকাজ পূর্ব কলকাতা জলাভূমির উপর দিয়ে কী ভাবে হবে, সেই প্রশ্ন ওঠায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়। রামসার তালিকাভুক্ত পূর্ব কলকাতা জলাভূমির উপর দিয়ে ওই উড়ালপথ নিয়ে গেলে তাতে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে, এমন একটি আশঙ্কার বিষয় সামনে আসে। পরিবেশবিদেরা ওই প্রকল্প নিয়ে আপত্তি তোলেন। পরিবেশ আদালত অবধি বিষয়টি গড়ায়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে ওই প্রকল্প তৈরি করার কথা ছিল কেএমডিএ-র। আধিকারিকেরা জানান, যাবতীয় আইনি বিধিনিষেধ মেনে জলাভূমির বদলে ওই উড়ালপথ ডাঙার উপর দিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আলাদা নকশাও পরবর্তী কালে তৈরি হয়। এর জন্য প্রকল্পের খরচও বেড়ে যায়। কিন্তু প্রথমে ওই কাজের জন্য ‘গ্লোবাল টেন্ডার’ ডাকা হলেও কোনও সংস্থাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তী কালে, ২০২৪ সালে ৮৪০ কোটি টাকায় কাজের বরাত পায় একটি সংস্থা।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, প্রকল্পের বিপুল খরচ কোথা থেকে জোগাড় করা হবে, তা নিয়েও আগের তৃণমূল সরকারের আমলে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এমনকি, এক বার ওই উড়ালপথ তৈরির টাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা থেকে জোগাড় করার ভাবনাচিন্তাও শুরু হয় বলে খবর। ঘটনা যা-ই হোক, প্রায় এক দশক ধরে ওই প্রকল্পের কাজ এতটুকুও এগোয়নি। সোমবার রাজ্য বাজেটে নতুন সরকার ওই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করার পরে আবার তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কারণ, শুধুই নিউ টাউন ও ই এম বাইপাস নয়, ওই করিডর তৈরি হলে তা কলকাতার সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার একটি বিস্তীর্ণ অংশের যোগাযোগ স্থাপন করবে। পৌঁছনো যাবে এখনকার চেয়ে অনেকটাই কম সময়ে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে