—প্রতীকী চিত্র।
মাত্র দু’সপ্তাহ আগে কাজে যোগ দিয়েছিল বছর ১৭-র কিশোর। কারখানার লিফ্টে ওঠার সময়ে আচমকাই সেটি আটকে যায়। দরজা খুলে বেরোনোর চেষ্টা করার সময়ে লিফ্ট আবার চালু হয়ে যাওয়ায় ওই কিশোরের শরীর পুরো পিষে গিয়ে মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নাবালকের নাম আকাশ দেব। শনিবার বরাহনগরের ঘটনা।
এই ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ব্যারাকপুরের এক পুলিশকর্তা বলেন, ‘‘ওই কিশোরকে কী ভাবে কাজে নেওয়া হয়েছিল, সুরক্ষা-বিধি কী ছিল, সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’
স্থানীয় সূত্রের খবর, বরাহনগরের এ কে মুখার্জি রোডেরসারদাপল্লির বাসিন্দা আকাশ। তার বাবা সত্যনারায়ণ দেব জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে সুভাষনগর বঙ্গলক্ষ্মী বাজারের গেঞ্জি কারখানায় আকাশ কাজে যোগ দিয়েছিল।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, ওই দিন দুপুর তিনটে নাগাদ কারখানার লিফ্ট দিয়ে উপরে উঠছিল আকাশ। সেই সময়ে দোতলা ও তেতলার মাঝখানে লিফ্ট আচমকা আটকে যায়। কোনও মতে লিফ্টের দরজা খুলে ফেলে আকাশ। এর পরে কোনও ক্রমে উপরের দিকে উঠে তেতলার লিফ্টের ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করেসে। তখনই আচমকা লিফ্ট চালু হয়ে যাওয়ায় আকাশের পুরো শরীরতাতে আটকে গিয়ে পিষে নীচে পড়ে যায়।
আওয়াজ শুনে লোকজন ছুটে গিয়ে ওই কিশোরকেহাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীরা মনে করছেন, লিফ্টে একা আটকে গিয়েআতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল আকাশ। তাতেই সে লিফ্ট থেকে ওই ভাবে বেরোনোর চেষ্টা করেছিল। লিফ্টের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সত্যনারায়ণেরা।
বরাহনগর পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ সদস্য অঞ্জনপাল বলেন, ‘‘লিফ্ট রক্ষণাবেক্ষণ আদৌ ঠিক ভাবে হত কিনা, আর এক কিশোরকে কাজে নেওয়া হয়েছিল কেন, তা খতিয়ে দেখাপ্রয়োজন। আমরা পুলিশকে নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছি।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে