শাহিন আফ্রিদি (বাঁ দিকে) ও সলমন আঘা। ছবি: পিটিআই।
শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পাকিস্তান-বাংলাদেশ এক দিনের সিরিজ়। সেই উত্তাপ সিরিজ় শেষেও থেকে গেল। বাংলাদেশের মাটিতে এক দিনের সিরিজ় হেরেছে পাকিস্তান। সিরিজ় হারের পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন সলমন আঘারা। ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদকে লিখিত অভিযোগ করেছে পাকিস্তান।
‘ইএসপিএন ক্রিকইনফো’ জানিয়েছে, তৃতীয় এক দিনের ম্যাচে একটি ডিআরএস নিয়ে মূল অভিযোগ পাকিস্তানের। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২৯১ রান তাড়া করতে নেমে তখন ২ বলে ১২ রান দরকার পাকিস্তানের। ব্যাট করছিলেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। রিশাদ হোসেনের বল লেগ সাইডে পড়ে আরও বাইরের দিকে যায়। আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা ওয়াইড দেন। কিন্তু বেশ কিছু ক্ষণ পরে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তাতে দেখা যায়, ব্যাটের নীচে বল লেগেছে। ফলে ওয়াইডের সিদ্ধান্ত বদল হয়। ইনিংসের শেষ বলে আউট হন শাহিন। ১১ রানে ম্য়াচ জেতে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের অভিযোগ, নির্ধারিত ১৫ সেকেন্ড পেরিয়ে যাওয়ার পর রিভিউ নিয়েছে বাংলাদেশ। এই সিরিজ়ে রিভিউ নেওয়ার ক্ষেত্রে সময় দেখানোর প্রযুক্তি নেই। ফলে ১৫ সেকেন্ড হয়েছে কি না, তা বলা মুশকিল। তবে পাকিস্তানের অভিযোগ, জায়ান্ট স্ক্রিনে বলের রিপ্লে দেখার পর রিভিউ নিয়েছে বাংলাদেশ। তা ক্রিকেটের নিয়মের বাইরে।
পাকিস্তান অবশ্য ম্যাচ রেফারির কাছে কী আবেদন করেছে তা জানা যায়নি। মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারেরা ক্ষমা চাইলে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে পারে পাকিস্তান। তবে এখনও এই বিষয়ে পাকিস্তান বা বাংলাদেশ সরকারি ভাবে কিছু জানায়নি।
সিরিজ়ের প্রথম ম্যাচেই বিতর্ক হয়েছিল সলমন আঘার রান আউটকে কেন্দ্র করে। ঘটনাটি পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯ তম ওভারের। বোলার ছিলেন মেহদি হাসান মিরাজ়। ব্যাট করছিলেন মহম্মদ রিজ়ওয়ান। ওভারের চতুর্থ বলটি সোজা খেলেন রিজ়ওয়ান। নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে থাকা সলমন বলের সামনে থেকে সরে যান। মিরাজ় বলটি পা দিয়ে আটকান। সেটি থামার আগেই ক্রিজ়ের বাইরে থাকা সলমন হাত দিয়ে তুলতে যান। সেই সুযোগে মিরাজ় দ্রুত বল তুলে উইকেটে ছুড়ে দেন। তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে আউট হন সলমন।
রান আউট হওয়ার পর প্রথমে নিজের হেলমেট ও দস্তানা মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেন সলমন। পরে তৃতীয় আম্পায়ারও তাঁকে আউট দিলে হেলমেট ও দস্তানা তুলে নিয়ে ডাগ আউটের দিকে ফিরছিলেন তিনি। ডাগ আউটে গিয়ে আবার হেলমেট ও দস্তানা ছুড়ে ফেলেন পাক ক্রিকেটার। এই বিষয়টি ভাল ভাবে দেখেননি ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদ।
খেলা শেষে ম্যাচ রেফারি তাঁর রিপোর্টে এই বিষয়টি আইসিসির ২.২ ধারার আওতায় রেখেছেন। ক্রিকেটের কোনও সরঞ্জাম ছুড়ে ফেললে এই ধারায় সেই ক্রিকেটারকে শাস্তি দেওয়া হয়। সেই ধারাতেই শাস্তি পেয়েছেন সলমন। তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি ডি-মেরিট পয়েন্টও দেওয়া হয়েছে।