India Cricket

সূর্য, হরমন চান হেরে যাওয়া বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে, সিরাজের দাপটে ওভাল টেস্ট জয়ের স্বাদ আরও এক বার পেতে চান শুভমন

তিন দলের তিন অধিনায়ক। তিন জনের লড়াই আলাদা। তবে তিন জনেরই স্বপ্ন এক। দলকে বিশ্বকাপ জেতানো। সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন তাঁরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ২২:২৭
Share:

(বাঁ দিক থেকে) শুভমন গিল, হরমনপ্রীত কৌর, সূর্যকুমার যাদব ও হর্ষ ভোগলে। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।

গত দু’বছরে তিন জনই আইসিসি ট্রফি জিতেছেন। তাঁরা তিন জনই অধিনায়ক। শুভমন গিল পুরুষদের এক দিন ও টেস্ট অধিনায়ক। সূর্যকুমার যাদব পুরুষদের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক। আর হরমনপ্রীত কৌর মহিলাদের দলের অধিনায়ক। তিন জনের লড়াই আলাদা। তবে তিন জনেরই স্বপ্ন এক। দলকে বিশ্বকাপ জেতানো। সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন তাঁরা।

Advertisement

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সঞ্চালক হর্ষ ভোগলের আমন্ত্রণে এক মঞ্চে বসেছিলেন সূর্য, শুভমন ও হরমন। সেখানেই হরমনপ্রীত বলেন, “ভারতে মহিলাদের ক্রিকেট শুরুর প্রথম দিন থেকে এই স্বপ্নটাই প্রত্যেকে দেখেছেন। কিন্তু আমরা সেটা সত্যি করে দেখিয়েছি। আশা করছি এই ধারা বজায় থাকবে।” বিশ্বকাপ ফাইনালে জয়সূচক ক্যাচ ধরেছিলেন অধিনায়ক হরমন নিজে। সেই ক্যাচটাই যে তাঁর জীবনে ধরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ তা স্বীকার করে দিয়েছেন হরমন। তিনি বলেন, “সকলেই অপেক্ষা করছিল, কখন খেলা শেষ হবে। ওই ক্যাচটা সকলেই ধরতে চাইছিল। ভাগ্য ভাল ওটা আমার দিকে এসেছে। জীবনে অনেক ক্যাচ ধরেছি। তবে ওটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

গত সপ্তাহে দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। সেই জয়ের স্বাদ এখনও লেগে রয়েছে সূর্যের মুখে। তবে যে চাপ তাঁদের সামলাতে হয়েছে সেই অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন সূর্য। ভারত অধিনায়ক বলেন, “আমরাই বিশ্বকাপ জেতার দাবিদার ছিলাম। তবে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপ আমাদের উপরেই ছিল। গত বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় প্রত্যাশাও অনেক বেশি ছিল। প্রথম ম্যাচে আমেরিকার বিরুদ্ধে দেখা গিয়েছিল চাপ কী ভাবে ঘাড়ে চেপে বসে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সামলে জিতেছি।”

Advertisement

গত বছর ভারতের হয়ে প্রথম আইসিসি ট্রফি জিতেছিলেন শুভমন। সেই অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন তিনি। শুভমন বলেন, “২০১৩ সালে আমার নায়কদের দেখেছিলাম চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিততে। বিরাট ভাই, রোহিত ভাই, ধোনি ভাইয়েরা সে বার জিতেছিল। সে দিন থেকেই স্বপ্ন দেখতাম এক দিন আমিও জিতব। ২০২৫ সালে সেটা সত্যি হয়েছে। দেশের হয়ে প্রথম আইসিসি ট্রফি জেতার আনন্দই আলাদা।” রোহিত শর্মার পর অধিনায়ক হয়েছেন শুভমন। ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপেও জয়ের ধারা বজায় রাখতে চান তিনি।

কোচ গৌতম গম্ভীরকে হাসানোর সব রকম চেষ্টা করেছিলেন সূর্যেরা। কিন্তু ফাইনালের আগে কোনও ভাবেই হাসাতে পারেননি তাঁকে। সেই প্রসঙ্গে সূর্য বলেন, “গৌতি ভাইকে হাসানোর অনেক চেষ্টা করি। কিন্তু ফাইনালের আগে পর্যন্ত ও খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না। সব ম্যাচই কঠিন হচ্ছিল। তবে ফাইনালের পর ও হেসেছে।” বিশ্বকাপে শেষ চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে ২৫০ রানের বেশি করেছে ভারত। এত রান করার রহস্য ফাঁস করেছেন সূর্য। তিনি বলেন, “২০২৪ সালে রাহুল স্যরের অধীনে যেখানে শেষ করেছিলাম, সেখান থেকেই শুরু করেছি। দলের উপর ভরসা ছিল। খুব বেশি পরিবর্তন করার চেষ্টা করিনি। দু’বছর ধরে যারা ভাল খেলেছে তাদের ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। আমরা আট ব্যাটারে খেলেছি। তাই জানতাম কেউ না কেউ ভাল খেলবেই। সকলে দায়িত্ব নিয়েছে। কেউ ব্যক্তিগত মাইলফলকের কথা ভাবেনি। সঞ্জু চাইলেই শতরান করতে পারত। কিন্তু দলের কথা ভেবে খেলেছে। তাই তিন বার ২৫০-র বেশি রান করতে পেরেছি।”

২০২৫ সালে মহিলাদের বিশ্বকাপ জেতার পথে সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে রেকর্ড রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। সেই জয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন জেমাইমা রদ্রিগেজ়। অপরাজিত শতরান করেছিলেন তিনি। অথচ তার আগে জেমাইমার ফর্ম ভাল ছিল না। বাদও পড়তে হয়েছিল তাঁকে। ইচ্ছা করেই তাঁরা সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন হরমন। তিনি বলেন, “কখনও কখনও বিশ্রামের দরকার পড়ে। খেলা থেকে মন একটু সরলে ভাল হয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম না ওকে বাদ দেব কি না। কোচ বলল, বিশ্রাম দিতে। সেটা ওর কাজে লেগেছে। ও যেভাবে ফিরেছে তা এক কথায় অসাধারণ।”

২০২৩ সালে পুরুষদের এক দিনের বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরেছিল ভারত। সেই দলে ছিলেন শুভমন। ২০২৭ সালে পুনরাবৃত্তি চান না তিনি। এ বার জিততে নামবেন শুভমন। তিনি বললেন, “২০২৭ সালের বিশ্বকাপ জেতাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এখন থেকেই সে কথা ভাবছি। গত বার কাছে গিয়েও ফিরতে হয়েছে। এ বার আর চাই না।”

তিন অধিনায়ককে কয়েকটি প্রশ্নও করেন হর্ষ। একই প্রশ্নের জবাব দিতে হয় সূর্য, হরমনপ্রীত ও শুভমনকে।

হর্ষ— শেষ ওভারে কাকে বল দেবে? শেষ ওভারে কাকে ব্যাট হাতে দেখতে চাও?

সূর্য— বল হাতে বুমরাহকে চাই। ব্যাট হাতে হার্দিককে।

হরমনপ্রীত— বল হাতে দীপ্তি। ব্যাট হাতে মন্ধানা।

শুভমন— বল হাতে অর্শদীপ। ব্যাট হাতে রোহিত ভাই।

হর্ষ— কোনও এক ম্যাচ আরও এক বার খেলতে চাইলে সেটা কোন ম্যাচ?

সূর্য— ২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের ফাইনাল। এ বার নেমে জিততে চাই।

হরমনপ্রীত— ২০১৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের ফাইনাল। শেষ কয়েকটা ওভার খেললেই হবে। এ বার জিততে চাই।

শুভমন— ওভাল টেস্টের শেষ দিন। সিরাজ যে ভাবে জিতিয়েছিল, সেই স্বাদ আরও এক বার পেতে চাই।

হর্ষ— ভারতের হয়ে খেলার অর্থ কী?  

সূর্য— স্বপ্ন পূরণ হওয়া। তবে বিশ্বকাপ জেতার থেকে আনন্দের কিছু হয় না।

হরমনপ্রীত— ছোট থেকে যে স্বপ্ন দেখেছি তা সত্যি হয়েছে। আমার কাছেও বিশ্বকাপ জেতা সবচেয়ে বেশি আনন্দের।

শুভমন— স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। দেশের হয়ে যত বেশি সম্ভব বিশ্বকাপ জিততে চাই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement