তিলজলা থানা এলাকায় বাড়ি ভাঙার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
তিলজলা থানা এলাকার তপসিয়ায় বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। তবে এখনই সেখানকার কোনও বাসিন্দার পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে না। শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। শহরে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও আগের সরকারের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ ছিল বলে উল্লেখ করেছেন বিচারপতি। আগামী ২২ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
গত মঙ্গলবার তপসিয়ার একটি বহুতলের দোতলায় চামড়ার কারখানায় আগুন লেগে গিয়েছিল। তাতে পুড়ে মৃত্যু হয় দু’জনের। আরও তিন জন গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার পরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিলজলার ওই বহুতল বেআইনি ভাবে নির্মিত। তার কোনও বিল্ডিং প্ল্যান নেই এবং সেখানে অবৈধ ভাবে কারখানা চলছিল। বহুতল ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন তিনি। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিলজলায় বুলডোজ়ার পৌঁছে যায় এবং বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়। ওই বহুতলের বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে। বাড়ির বেশ কিছু অংশ ভাঙার প্রক্রিয়া সম্পন্নও হয়ে গিয়েছে। তা নিয়ে হাই কোর্টে মামলা হয়।
আদালত জানিয়েছে, কোনও নির্মাণই আইন না মেনে ভেঙে ফেলা যাবে না। আইন মেনে কাজ করতে হবে। বিচারপতি বসুচৌধুরী জানান, তিলজলার বহুতল ভাঙার উপর আপাতত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ থাকবে। ওই ঠিকানায় কোনও ব্যবসা এখন করা যাবে না। কেউ সেখানে থাকতেও পারবেন না। সেখানকার কোনও বাসিন্দা পুনর্বাসন এখন পাবেন না। এমনকি, ভাঙা অংশ মেরামতও করা যাবে না। আপাতত জায়গাটিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রাজ্যে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে এর আগেও একাধিক নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কিছু বেআইনি নির্মাণ আদালত ভেঙে ফেলার নির্দেশও দিয়েছিল। বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘পুরনির্মাণ সংক্রান্ত মামলার শুনানি করতে গিয়ে দেখেছি, রাজ্য জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো বেআইনি নির্মাণ গজিয়ে উঠেছে। এই সংক্রান্ত আদালতের একাধিক নির্দেশ মানতে কার্যকরী পদক্ষেপ করেনি সরকার।’’
বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে রাজ্যে প্রথম বারের জন্য সরকার গঠন করেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু। তিনি ক্ষমতায় এসেই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। শুভেন্দু ঘোষণা করেছেন, বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করে সেখানে বিদ্যুৎ এবং জলের লাইন কেটে দেওয়া হবে। কলকাতা পুরসভাকেও সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশেষ করে কসবা, তিলজলা, একবালপুর, মোমিনপুরের মতো এলাকার কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছিলেন শুভেন্দু। জানিয়েছিলেন, এই সমস্ত ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছে। তিলজলার বাড়িটির ক্ষেত্রে হাই কোর্ট পরবর্তী শুনানির দিন কী নির্দেশ দেয়, সেটাই দেখার।