—প্রতীকী চিত্র।
খাবারে ভেজাল সম্পর্কে বার বার সতর্ক করেন চিকিৎসকেরা। খাবারে মেশানো নানা রং শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। খাবারে রাসায়নিক রং ব্যবহারের প্রবণতা বিপদ বাড়াচ্ছে বলেও জানান চিকিৎসকেরা। আবার দই, পনিরের মতো খাবারে ভেজাল থাকায় সেগুলির পুষ্টিগুণ কমছে।
২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের অধীন খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ (ফুড সেল) ভেজাল খাবার সরবরাহের অপরাধে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা জরিমানা বাবদ আদায় করেছে। এ ছাড়া, শহরের নানা প্রান্ত থেকে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে ১১৮ জন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুর স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ভেজাল খাবার দু’ভাগে ভাগ করা হয়— অনিরাপদ (আনসেফ) এবং খারাপ (সাবস্ট্যান্ডার্ড) বা যার গুণমান বজায় নেই। অনিরাপদ খাবারে শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর উপাদান মেশানো থাকে। এক পুর স্বাস্থ্য আধিকারিকের কথায়, ‘‘সাধারণত, বিরিয়ানি, চানাচুর, ভুজিয়ার নমুনা পরীক্ষায় মেটানিল ইয়োলোর মতো রং পাওয়া যায়। এগুলি অনিরাপদ খাবার। সাবস্ট্যান্ডার্ড খাবারের একটি জল মেশানো দুধ। যা কম ক্ষতিকারক।’’
পুরসভার খবর, চলতি অর্থবর্ষে ১১৩টি খাদ্যের নমুনা ‘সাবস্ট্যান্ডার্ড’ মানের মিলেছে, ১০টি খাবারের নমুনা মিলেছে অনিরাপদ। বছরভর পুরসভার ফুড সেফটি অফিসারেরা শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে ঘুরে খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করেন। চলতি অর্থবর্ষে দশটি দোকানের খাবারে ‘মেটানিল ইয়েলো’ রং মিলেছে। পুর স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, মেটানিল ইয়েলো স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। এ থেকে কর্কট রোগ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এ ছাড়া, মিষ্টির উপরের তবক রুপো থেকে তৈরি হওয়ার কথা। কিছু নমুনায় দেখা গিয়েছে, তবক তৈরি হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম থেকে! যা কিডনির ক্ষতি করে। পুর খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, প্রাকৃতিক রঙের বদলে রাসায়নিক রঙের ব্যবহার চলছে।
ফুটপাতে বিক্রি হওয়া প্লাস্টিকবন্দি পেপসিতে মিলেছে ‘রোডামিন বি’ নামে এক প্রকার রং। এক পুর স্বাস্থ্য আধিকারিকের কথায়, ‘‘এই সব রং দেওয়া খাবার নিয়মিত খেলে পেটের সমস্যা তো বটেই, ক্ষতি হতে পারে লিভারেরও। ভয় রয়েছে কর্কট রোগেরও।’’ তাঁরা জানান, শহরের কিছু দোকানে পনির, দইয়ে যতটা স্নেহপদার্থ থাকার কথা, তা মেলেনি। ফলে পুষ্টিগুণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক মিষ্টির দোকানে অভিযান চালিয়ে নানা খামতি মিলেছে।
পুর খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিকেরা জানান, তাঁরা নিয়মিত অভিযান চালান। তবে সতর্ক হতে হবে মানুষকেও। রং, তবক দেওয়া খাবার কিনতে সচেতনতা প্রয়োজন। প্যাকেটবন্দি খাদ্যসামগ্রী কেনার সময়ে প্যাকেটের গায়ে এফএসএসএআই (ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অব ইন্ডিয়া)-এর লোগো, লাইসেন্স, ব্যাচ নম্বর, লট, কোড রয়েছে কিনা, তা দেখে নিতে হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে