Kolkata Municpal Corporation

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়া যাচাইয়ে অডিটের সিদ্ধান্ত পুরসভায়

পুরসভার কেন্দ্রীয় অডিট বিভাগ জানাচ্ছে, পুর স্বাস্থ্য বিভাগে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনে চালু হলেও তা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। জন্ম-মৃত্যুর নতুন শংসাপত্র বা শংসাপত্রের সংশোধন করাতে এসে এখনও সাধারণ নাগরিকদের হেনস্থার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ।

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ০৭:৩২
Share:

কলকাতা পুরসভা। —ফাইল চিত্র।

কলকাতা পুরসভার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়া যাচাইয়ে এ বার অডিট করবে কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা সিএজি। পুর স্বাস্থ্য দফতরের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় এই প্রথম অডিট করা হবে। অডিট শুরু করার আগে কলকাতা পুরসভায় নিযুক্ত কেন্দ্রীয় অডিটরের তরফে গত ২ মার্চ এ বিষয়ে পুরসভার কমিশনারকে তিন পাতার চিঠি লিখে পাঠানো হয়েছে। অডিটের কাজ সম্পূর্ণ করতে পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের যাবতীয় সহায়তা চাওয়া হয়েছে। অডিটটি এপ্রিল ২০২৩ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য় পরীক্ষা করবে।

পুরসভার কেন্দ্রীয় অডিট বিভাগ জানাচ্ছে, পুর স্বাস্থ্য বিভাগে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনে চালু হলেও তা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। জন্ম-মৃত্যুর নতুন শংসাপত্র বা শংসাপত্রের সংশোধন করাতে এসে এখনও সাধারণ নাগরিকদের হেনস্থার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ। পুর কর্তৃপক্ষের তরফে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র প্রদানে স্বচ্ছ পরিষেবার দাবি করা হলেও এখনও ঘুষ নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে বলেও অভিযোগ। শংসাপত্র নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় এমন গরমিলের আঁচ পেয়েই সিএজি এই অডিট চালু করতে চায়। অডিট পরিচালনার কাজ করবেন দু’জন কেন্দ্রীয় অডিট অফিসার। তাঁরাই আগামী কয়েক মাস পুর স্বাস্থ্য দফতরের জন্ম-মৃত্যু বিভাগে গিয়ে এই সংক্রান্ত যাবতীয় ডিজিটাইজ়ড নথি সংগ্রহ ও পরীক্ষা করবেন। সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কাঠামোগত অডিট পরিচালনা করবে কেন্দ্রীয় অডিট বিভাগ। যার মধ্যে রয়েছে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র সংশোধন, শংসাপত্র দেওয়া, ডিজিটাল ইন্টারফেস (জন্ম-মৃত্যুর তথ্য পোর্টাল ইন্টিগ্রেশন সহ)–সহ যাবতীয় কিছু। সূত্রের খবর, বিশেষ অডিটের মাধ্যমে আইনি কাঠামো, পরিষেবার মান, সময়োপযোগীতা, স্বচ্ছতা, জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণে বিভাগ কতটা সক্রিয়, তা যাচাই করা হবে।

পুরসভার কেন্দ্রীয় অডিট বিভাগ সূত্রের খবর, অডিটের মূল নীতিগুলির মধ্যে রয়েছে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ১৯৬৯ এবং পশ্চিমবঙ্গ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধি, ২০০০। শংসাপত্র দেওয়ার জন্য জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য পোর্টালের সঙ্গে মিলছে কিনা, তা খতিয়ে দেখবেন কেন্দ্রীয় অডিটরেরা। পুরসভার এক কেন্দ্রীয় অডিটর জানান, ওয়টস্যাপ চ্যাটবটের মাধ্যমে রোজ ১৫০ থেকে ৫০০টি শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে। নাগরিক সাহায্যে চ্যাটবট প্রথায় স্বচ্ছতা রয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করবে কেন্দ্রীয় অডিট বিভাগ। প্রসঙ্গত, এস আই আর-এর সম্পর্কিত নথি দেওয়ার জন্য পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগে অতিরিক্ত কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ওই সমস্ত কেন্দ্রের যাবতীয় কাজ যাচাই করবে কেন্দ্রীয় অডিট বিভাগ।

জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র সংগ্রহ করতে পুরসভা সাধারণ মানুষের থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে। তিন বছর ধরে ওই অর্থ সংগ্রহের বিস্তারিত তথ্য যাচাই করবে কেন্দ্রীয় অডিট বিভাগ। বিভাগের তরফে পুর কমিশনারকে জানানো হয়েছে, বিপুল পরিমাণ তথ্য় সম্ভব হলে ডিজিটাল/ এক্সেল ফরম্যাটে জমা দিতে হবে। পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের স্বাক্ষর সম্বলিত ওই তথ্য কেন্দ্রীয় অডিট বিভাগের কাছে জমা দিতে হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন