রামগড়ের বিদ্যাসাগর কলোনিতে জন্ডিস আক্রান্তের বাড়িতে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী ও ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস মুখোপাধ্যায়। —নিজস্ব চিত্র।
প্রায় পাঁচ কোটি টাকায় কমিউনিটি সেন্টার! অর্থের এই বিপুল বরাদ্দ নিয়েই পুরসভার অন্দরে শুরু হয়েছিল বিতর্ক। সেই বিতর্কে আরও ঘি ঢালছে ফাইল হস্তান্তর না করা। যার জেরে থেমে গিয়েছে কাজ শুরুর প্রক্রিয়া।
পুরসভার বস্তি দফতর হিসেব দিয়েছিল, যোধপুর পার্কের ওই কমিউনিটি সেন্টারটি গড়তে বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। পুরসভার অন্য দফতরের ইঞ্জিনিয়ার বলেছিলেন, খরচ তিন কোটি টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। পুর ইঞ্জিনিয়ারদের দু’রকমের এই হিসেবই উসকে দিয়েছিল বিতর্ক।
দেড় মাস আগে মেয়র পরিষদের বৈঠকে বস্তি দফতরের ওই প্রস্তাব পেশ হতেই প্রথম সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন একাধিক মেয়র পারিষদ। প্রশ্ন উঠেছিল, পুরসভার নিজস্ব জমিতে তৈরি কমিউনিটি সেন্টারের নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পুর ইঞ্জিনিয়ারের হাতে থাকার পরেও কী করে এত খরচ হয়! এর পরেই মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, বস্তি দফতর নয়, ওই কাজ করবে পুরসভার সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং দফতর। এর পরেও বস্তি দফতর থেকে বারবার চাওয়া সত্ত্বেও শুক্রবার পর্যন্ত সেই ফাইল পায়নি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং দফতর।
পুরসভার একাধিক সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেব কষে দেখেন, খরচের পরিমাণ তিন কোটি টাকার ভিতরে হওয়ার কথা। ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদ (রাস্তা) রতন দে শুক্রবার বলেন, ‘‘বস্তি দফতরের দেওয়া খরচ বেশি মনে হচ্ছে। তা-ও তো শুধু নির্মাণের। এসি, আলো প্রভৃতি যোগ হলে তো আরও বেড়ে যাবে। পুরকর্তারা তো জানিয়েছেন, সিভিল দফতর কাজটা করুক। কিন্তু বস্তি দফতর ফাইল দিচ্ছে না! কেন এমন হচ্ছে খোঁজ নিচ্ছি।’’
নিজের ওয়ার্ডে কমিউনিটি সেন্টার তৈরির জন্য ২০১৬ সালে মেয়রের কাছে আবেদন জানান রতনবাবু। মেয়র পারিষদের বৈঠকে তা গৃহীতও হয়। বস্তি দফতর কাজের আগ্রহ প্রকাশ করে একটি প্রস্তাব তৈরি করে। পুরসভা সূত্রের খবর, প্রতি তলে আড়াই হাজার বর্গফুট জুড়ে ভবনটি হবে পাঁচতলা। তার জন্য প্রতি বর্গফুটে খরচ ধরা হয়েছে ৪৭০০ টাকা। গত ১২ এপ্রিল মেয়র পারিষদের বৈঠকে ওই প্রস্তাব পেশ হতেই বিস্মিত হন একাধিক মেয়র পারিষদ।
সিভিল দফতরের একাধিক ইঞ্জিনিয়ার জানান, বৈঠকে যে প্রস্তাব জমা পড়েছে তাতে দেখা গিয়েছে, শুধু ভিত (ফাউন্ডেশন) করতেই পৌনে দু’কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। কেন এত খরচ, তা বোঝা যাবে ফাইল দেখে। বস্তি দফতরের এক ইঞ্জিনিয়ারের বক্তব্য, ‘‘পাঁচতলা ভবনটি টাইলস দিয়ে তৈরি হবে। তাই ভিত তৈরি করতে অনেক বেশি খরচ হওয়ার কথা। সব ধরেই খরচ ধার্য হয়েছে।’’ সিভিল দফতর সূত্রের খবর, বস্তি এবং সিভিলের মধ্যে ঝগড়া না করেই বিষয়টি সমাধান করতে চায় তারা। তবে ওই ফাইল পাওয়া জরুরি। না হলে নতুন করে ফাইল করতে হবে।