—প্রতীকী চিত্র।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ পড়েছে কলকাতার অফিসপাড়াতেও। গ্যাস সিলিন্ডারের অভাবে কোথাও কমেছে রান্নার পদ। কোথাও আবার জ্বালানির খরচ তুলতেই নাভিশ্বাস উঠছে ব্যবসায়ীদের। কাজে বেরিয়ে দুপুরে কম খরচে খাওয়া-দাওয়ার সুযোগ কত দিন থাকবে, তা নিয়ে সন্দিগ্ধ অফিস পাড়ার খাবার বিক্রেতারা।
অফিসপাড়ার অন্যতম গন্তব্য মধ্য কলকাতার ডেকার্স লেন। বেলা গড়াতে না গড়াতেই সেখানে চিকেন স্টু, ফিশ ফ্রাই, ফ্রায়েড রাইস কিংবা অন্যান্য খাবারের টানে রাস্তা থেকে পাকা দোকান, সর্বত্র ভিড় জমে যায়। ওই এলাকার প্রসিদ্ধ চিত্তদার দোকানে এখন শুধু স্টু, ফিশ ফ্রাই ও ঘুগনি বিক্রি হচ্ছে। চপ এবং ঝোল বানানো বন্ধ রয়েছে। কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেখানে গ্যাসের অভাবের সঙ্গে দোসর সমস্যা কয়লায় নিষেধাজ্ঞা। এক দিকে সিলিন্ডারের জোগানে টান, অন্য দিকে পুলিশ গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা জানিয়ে দোকানদারদের নিষেধ করেছে কাঠকয়লা জ্বালাতে। দোকানদার বাপি সাহা বলেন, ‘‘সিলিন্ডার শেষের পথে। কাঠকয়লা জ্বেলেই রান্না করতে বাধ্য হচ্ছি। গোটা ডেকার্স লেন জুড়ে এই সমস্যা।’’ ইতিমধ্যে ডেকার্স লেনে কয়েকটি দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে খবর।
চাঁদনি চক, এলআইসি বিল্ডিংয়ের পাশের গলি, বি বা দী বাগ, ফেয়ারলি প্লেসের মতো অফিসপাড়াও গত কয়েক দিন ধরেই জ্বালানির অভাবে ধুঁকছে। রেস্তরাঁগুলিতে বিদ্যুতের সংযোগ থাকায় রান্নায় বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের ব্যবহার শুরু করলেও ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানদারদের সেই সুবিধে নেই। তাঁদের সিংহভাগই গ্যাস সিলিন্ডার কালোবাজার থেকে কেনেন।
ফেয়ারলি এলাকার একটি খাবারের দোকানের মালিক শ্রীধর সামন্তের কথায়, ‘‘গ্যাস এবং উনুন দু’টিই সাধারণ সময়ে ব্যবহার হয়। সিলিন্ডার কবে পাব জানি না। কাঠকয়লা মজুত রাখতে হচ্ছে। গ্যাস আর উনুনে রান্নার সময়েরও অনেকটা তফাত। সময়ে খাবার না পেলে ক্রেতারা ফিরে যাবেন।’’
চাঁদনি চক বাজারের ভিতরের দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের দোকান ইডলি-ধোসা ছাড়া আর কিছু তৈরি করছে না। দোকানের তরফে শ্রীনাথ বলেন, ‘‘মঙ্গলবার চারটি সিলিন্ডার এসেছে। গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা জানিয়েছে, এর পরে কত দিনে সিলিন্ডার আসবে, জানা নেই।’’
পাঁচ নম্বর সেক্টরে তথ্যপ্রযুক্তি নগরীতেও এক অবস্থা। সেখানে ইতিমধ্যেই ফুটপাতের অনেক দোকানে খাবারের পদের সংখ্যা কমছে। ব্যবসায়ীরা জানান, মজুত করা গ্যাসে বেশি দিন টানা যাবে না। ব্যবসায়ী হরিসাধন সাহার কথায়, ‘‘দূষণের কারণে উনুন জ্বালানো যাবে না। সিলিন্ডারের দাম আকাশছোঁয়া। এ ভাবে চললে ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে