Japandi Interior

অন্দরসাজে ‘জাপানদি’ কেতাদুরস্ততা! সেটি কী? কেনই বা ওই ভাবে ঘরসাজানোর জন্য মাতামাতি?

অদ্ভূত ব্যাপার হল, ইনস্টাগ্রাম প্রভাবিত দেখনদারির দুনিয়ায় এই নতুন ভাবনায় প্রভাবিতও হচ্ছেন বিশ্বের বহু মানুষ। তাই ঘর সাজানোর দুনিয়ায় এখন যুগের হাওয়ায় বইছে এই ‘জাপানদি ইন্টেরিয়র’-এর পালে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ১১:৩৬
Share:

প্রিয় ঘরটিকে জাপানদি সাজে সাজিয়ে দেখবেন? ছবি: সংগৃহীত।

বানানে কোনও ভুল নেই। কথাটা জাপানি নয়। জাপানদি-ই। যা এক ধরনের অন্দরসজ্জার ভাবনার নতুন নাম। যে ভাবনার মূল কথা সংক্ষিপ্ততা। নামমাত্র জিনিসে ঘর সাজানো। সেই ভাবনায় কোনও একটি দেশের সংস্কৃতির বাইরেও বাড়তি কিছু আছে।

Advertisement

মানুষ নানা ধরনের জিনিস দিয়ে নিজের প্রিয় ঘর বাড়ি সাজান। তাতে খানিক নিজের রূচির বিজ্ঞাপনেরও ব্যাপার থাকে। কিন্তু ‘জাপানদি’ অন্দরসজ্জা বলে, ঘরে সেটুকুই রাখুন যা না রাখলে নয়। আর অদ্ভূত ব্যাপার হল, ইনস্টাগ্রাম প্রভাবিত দেখনদারির দুনিয়ায় এই নতুন ভাবনায় প্রভাবিতও হচ্ছেন বিশ্বের বহু মানুষ। তাই ঘর সাজানোর দুনিয়ায় এখন যুগের হাওয়ায় বইছে এই ‘জাপানদি ইন্টেরিয়র’-এর পালে।

নামেই বোঝা যায়, জাপানদি অন্দরসজ্জার ভাবনায় জাপানি সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে। তবে শুধু জাপান নয়, আরও তিন দেশের সংক্ষিপ্ততার ভাবনা প্রভাব ফেলেছে এতে। সেই তিন দেশের নাম নরওয়ে, ডেনমার্ক এবং সুইডেন। এই তিন দেশকে একত্রে বলা হয় স্ক্যান্ডেনেভিয়া। এই স্ক্যান্ডেনেভিয়ানদের সংস্কৃতিকে কথ্য ভাষায় বলা হয় স্ক্যান্ডি। জাপানদি অন্দরসজ্জা সেই জাপানি আর স্ক্যন্ডি সংস্কৃতির ‘ফিউশন’ ।

Advertisement

জাপানিরা বিশ্বাস করেন ‘ওয়াবি-সাবি’-তে। যা অপূর্ণতার মাঝে সৌন্দর্য খুঁজতে বলে। অন্য দিকে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের ঘর সাজানোর সংস্কৃতির মূল কথা হল ‘হুগা’। অর্থাৎ এমন চেনা আরাম যা মনে এক লহমায় শান্তি এনে দেবে। জাপানদি অন্দরসজ্জায় ওই দুই দর্শন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে।

১. জাপান আর স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অন্দরসজ্জায় মিল কোথায়?

যদিও দুটি অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে পরষ্পরের থেকে অনেক দূরে, তবুও তাদের নকশা এবং ভাবনায় বেশ কিছু মিল রয়েছে—

মিনিমালিজম: দুই ভাবনাই অতিরিক্ত জাঁকজমক এড়িয়ে ‘লেস ইজ মোর’ বা অল্পেই অনেক নীতিতে বিশ্বাসী।

প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার: কাঠ, পাথর, বাঁশ এবং প্রাকৃতিক তন্তুর ব্যবহার দুই সংস্কৃতিতেই জনপ্রিয়।

ব্যবহার উপযোগী: আসবাবপত্র শুধু দেখতে সুন্দর হলেই হবে না, তা ব্যবহারের উপযোগী হতে হবে। সেই সঙ্গে তা যেন দীর্ঘ দিন ধরে চলে এবং গুণগত ভাবে ভাল থাকে, সেদিকেও নজর থাকে দুই সংস্কৃতির মানুষেরই।

প্রকৃতির সঙ্গে যোগ: জানালা দিয়ে আসা প্রাকৃতিক আলো এবং ঘরের ভেতর গাছপালার উপস্থিতি দুই অন্দরসজ্জার শৈলীতেই বিশেষ গুরুত্ব পায়।

জাপানদি স্টাইলে ঘর সাজাতে হলে

যদি নিজের ঘরকে ‘জাপানদি’ কেতাদুরস্ততায় সাজাতে চান, তবে যা খেয়াল রাখবেন—

রঙের ব্যবহার: সাদা, ক্রিম বা অফ-হোয়াইটের মতো হালকা রঙের সঙ্গে মাটির রঙ যেমন—টেরাকোটা, অলিভ গ্রিন বা হালকা বাদামী ব্যবহার করুন। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ঔজ্জ্বল্যের সঙ্গে জাপানি গাঢ় কাঠের রঙের বৈপরীত্য তৈরি করুন।

আসবাবপত্র: আসবাব হতে হবে নিচু, পরিচ্ছন্ন এবং সরল রৈখিক। খুব বেশি কারুকাজ করা ভারী আসবাব এড়িয়ে চলুন।

প্রাকৃতিক টেক্সচার: সুতির পর্দা, লিনেন সোফা কভার, পাটের কার্পেট এবং বাঁশের তৈরি শেড ব্যবহার করুন। এতে ঘরে উষ্ণ আমেজ আসবে।

পরিচ্ছন্নতা: অপ্রয়োজনীয় জিনিস ঘর থেকে বিদায় করুন। ঘর যত ফাঁকা ও গোছানো থাকবে, ততই স্পষ্ট হবে জাপানদি স্টাইল।

সবুজের ছোঁয়া: ঘরের কোণে বা টেবিলে ইনডোর প্ল্যান্ট রাখুন। বনসাই বা সাধারণ জাপানিজ কেতার গাছ এই ধরনের অন্দরসজ্জার সঙ্গে দারুণ মানায়।

কেন এই ধরনের অন্দরসজ্জার জনপ্রিয়তা বাড়ছে?

১। অনেক জিনিসে ঘর ভারী হয়ে উঠলে অনেক সময় মনে হতে পারে প্রচুর ভিড়ের মধ্যে রয়েছে। ব্যস্ত জীবনে মানুষ বাড়ি ফিরে মানসিক শান্তি আর কয়েক ঘণ্টার স্থৈর্য চায়। জাপানদি সজ্জার হালকা রং, খোলামেলা ভাব সেই শান্তি দেয়।

২। এই ধরনের অন্দরসজ্জায় বাহ্যিক প্রকাশের চেয়ে গুণমানের উপর জোর দেওয়া হয় বেশি। ঘনঘন বদলাতে হবে এমন আসবাব নয়, টেকসই আসবাব ব্যবহৃত হয়। যা দীর্ঘ মেয়াদে সাশ্রয়ী আবার গুণমাণে গৃহস্থের রূচির কথাও বলবে।

৩। এ যুগের ফ্ল্যাটে দুই ছটাক জায়গায় বেশি জিনিস সাজানোরও উপায় নেই। জাপানদি সজ্জার খেলাামেলা ভাবের জন্য ছোট জায়গাও বড় দেখায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement