Digital Arrest

‘ডিজিটাল গ্রেফতার’-এর ভয় দেখিয়ে চাপ, প্রায় ৯০ লক্ষ খোয়ালেন প্রবীণ

শুক্রবার প্রবীণ নাগরিক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন করে এক ব্যক্তি নিজেকে টেলিকম দফতরের আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২১
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

ডিজিটাল গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতানোর ঘটনা যেন থামতেই চাইছে না। এ বার টেকনো সিটি থানা এলাকার বাসিন্দা এক প্রবীণ নাগরিককে ওই ভয় দেখিয়ে প্রতারকেরা ৮৯ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ। বিধাননগরসাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতারিত প্রবীণ নাগরিক। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রের খবর, শুক্রবার ওই প্রবীণ নাগরিক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন করে এক ব্যক্তি নিজেকে টেলিকম দফতরের আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিল। সেই ব্যক্তি জানায় যে, ওই প্রবীণের একটি মোবাইল নম্বরের অপব্যবহার হচ্ছে। সে দাবি করে, ওই প্রবীণের আধার কার্ড ও অন্যান্য নথি ব্যবহার করে একটি সিম কার্ড নেওয়া হয়েছে। এক মহিলার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কাজে সেই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

এর পরে আরও একটি অজানা নম্বর থেকে অভিযোগকারীকে ফোন করা হয়। সেই জালিয়াত নিজেকে আইপিএস অফিসার বলে পরিচয় দিয়ে কথা বলতে থাকে। তার পরে ফের আরও একটি নম্বর থেকে ফোন করে ওই প্রবীণকে বলা হয়, ব্যাঙ্ক জালিয়াতির একটি বড় মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট থেকে তাঁর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এর পরে প্রতারকেরা অভিযোগকারীকে সাজানো ‘ভার্চুয়াল শুনানি’-তে ডাকে। তাতে জানানো হয়, ওই প্রবীণকে ‘ডিজিটাল গ্রেফতার’ করা হচ্ছে। তাঁর উপরে সর্বদা নজর রাখা চলছে। শুধু তা-ই নয়, ওই প্রবীণের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য পেতে লাগাতার চাপ দেওয়া হয়। সেই ভয়ে এবং সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে তিনি প্রতারকদের ৮৯ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা পাঠান।

এর পরে ওই প্রবীণ অনেক চেষ্টা করেও প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে, প্রতারিত হয়েছেন। তার পরেই তিনি ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে অভিযোগ জানান। তার পরে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশ সূত্রের খবর, এমন অপরাধের কারণে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিশেষত, প্রবীণদের বেশি করে নিশানা করার চেষ্টা চলছে। অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধার করে ফেরত দিচ্ছে। এই ধরনের সাইবার অপরাধ ঠেকাতে লাগাতার সচেতনতার কর্মসূচিও করছে পুলিশ। কেউ অজানা নম্বর থেকে ফোন করে ডিজিটাল গ্রেফতারির মতো কিছুর ভয় দেখালে দ্রুত স্থানীয় থানার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন