Doctors Transfer Order

সরকার বদলেছে, সুবিচার কবে? প্রশ্ন বদলির মুখে পড়া চিকিৎসকদের

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

শান্তনু ঘোষ

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ০৯:০৯
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

তাঁদের কেউ হুমকি-প্রথার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলেন। কেউ আবার রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচনে তৎকালীন শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।অধিকাংশই আর জি কর আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। অভিযোগ, সেই সমস্ত ‘অপরাধ’-এই একাধিক সিনিয়র চিকিৎসককে রাতারাতি বদলি করেছিল স্বাস্থ্য দফতর।

ওই চিকিৎসকদের দাবি, অনৈতিক বদলির বিরুদ্ধে তাঁরা একাধিক বার প্রতিবাদ জানিয়েও কোনও প্রতিকার পাননি। বরং বিভিন্ন ভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী, যারা ‘উত্তরবঙ্গ লবি’ নামে চিহ্নিত, তারা নেপথ্যে থেকে এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেছিল।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। সম্প্রতি জরায়ু-মুখের কর্কট রোগের প্রতিরোধে টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা অনুষ্ঠানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যও চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে চিকিৎসকদের বদলির নির্দেশআসবে না।

এই প্রেক্ষাপটে আগের শাসকদলের আমলে বদলির মুখে পড়া চিকিৎসকদের প্রশ্ন, তাঁরাকবে সুবিচার পাবেন? তাঁদের বক্তব্য, “কোনও ধরনের দুর্নীতি বাঅনিয়মের অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র শাসকদলের বিরাগভাজন হওয়ার কারণে আমাদের বদলিকরা হয়েছিল। এটি সম্পূর্ণঅনৈতিক।”

আর জি কর-কাণ্ডের পরে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে ‘হুমকি-প্রথা’ নিয়ে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। আন্দোলনের চাপে একাধিক মেডিক্যাল কলেজে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরে বিভিন্ন চিকিৎসা-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওই প্রথার সঙ্গে যুক্ত জুনিয়র চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সুপারিশ করেছিল সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলি। কয়েকটি ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও শুরু হয়েছিল।

তবে, স্বাস্থ্য মহলের একাংশের অভিযোগ, নবান্নে আর জি কর আন্দোলনে যুক্ত জুনিয়র চিকিৎসক এবং বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কার্যত সেই শাস্তিমূলক প্রক্রিয়াগুলিকে থামিয়ে দেন।

চিকিৎসক মহলের অভিযোগ, এর পরেই বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের তদন্ত কমিটির সঙ্গে যুক্ত সিনিয়র চিকিৎসকদের দূরবর্তী জেলার হাসপাতালে বদলি করা শুরু হয়। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ উৎপল দাঁ-এর নাম উল্লেখ করছেন। অভিযোগ, উত্তরবঙ্গ লবির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত অভীক দে-র বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য হওয়ার পরে তাঁকে আচমকাই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগে বদলি করা হয়।

একই ভাবে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে হুমকি-প্রথার তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক পদে থাকা এক বিভাগীয় প্রধান-সহ আরও কয়েক জন সদস্যকেও জেলার বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে বদলি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

অন্য দিকে, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচনে তৃণমূল-সমর্থিত প্যানেলের বিরুদ্ধে ‘জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অব ডক্টর্স’-এর নেতৃত্ব দেওয়া এবং প্রার্থী হওয়ার অভিযোগে মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিসের ১৫ জন চিকিৎসককে রাতারাতি উত্তরবঙ্গ-সহ বিভিন্ন জেলার মেডিক্যাল কলেজে বদলি করা হয়েছিল বলেও দাবি উঠেছে।

সেই তালিকায় রয়েছেন রেডিয়োথেরাপির শিক্ষক-চিকিৎসক বিষাণ বসু, ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক-চিকিৎসক পরাগবরণ পাল-সহ আরও অনেকে। অভিযোগ, এক বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাঁর স্ত্রীকেও বদলি করা হয়েছিল। তিনি পেশায় স্ত্রীরোগ বিভাগের শিক্ষক-চিকিৎসক।

এ ছাড়াও, বিভিন্ন প্রতিবাদ ও আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার কারণে রাজ্য স্বাস্থ্য পরিষেবার তিন জন চিকিৎসক এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক হেল্‌থ অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের এক চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে এক জনকে জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের পদ থেকে পাহাড়ের একটিযক্ষ্মা হাসপাতালের সুপার পদে পাঠানো হয়।

যদিও সরকারি সূত্রের বক্তব্য, সমস্ত বদলির ঘটনাই অভিযোগের ভিত্তিতে গুরুত্ব সহকারে খতিয়েদেখা হবে। কোনও চিকিৎসককে অনৈতিক ভাবে বদলি করা হয়ে থাকলে তিনি অবশ্যই সুবিচার পাবেন। কোন বদলি প্রশাসনিক প্রয়োজনের কারণে হয়েছে, কোনটি কাজের গাফিলতির অভিযোগে হয়েছে এবং কোনটি নিয়মিত বদলির অংশছিল, তা পৃথক ভাবে পরীক্ষা করে দেখা হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন