US-Iran Conflict

অস্ত্রে টান পড়েছে ইরানের! যুদ্ধবিরতি ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই তেহরানের সামনে, দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

যুদ্ধবিরতির মেয়াদবৃদ্ধির বিষয়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরান প্রাথমিক ভাবে সম্মত হয়েছে বলে প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি। কিন্তু ট্রাম্প এখনও তাতে চূড়ান্ত সম্মতি দেননি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ১০:০৬
Share:

(বাঁ দিকে) মাসুদ পেজ়েশকিয়ান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

যুদ্ধ শুরুর পরে তিন মাস অতিক্রান্ত। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশায় আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলি। এখনও পর্যন্ত তেহরান নতি স্বীকার না করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়ে সংশয় বাড়ছে আমেরিকায়। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার নতুন দাবি শোনা গিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখে। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের অস্ত্রভান্ডার ক্রমশ নিঃশেষ হয়ে আসায় তাদের সামনে যুদ্ধবিরতি ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই।

Advertisement

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ়ে শুক্রবার রাতের সাক্ষাৎকার-পর্বে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের বেশিরভাগ ড্রোন কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে। বেশিরভাগ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ কেন্দ্রগুলির বড় অংশও ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এখনও যুদ্ধ সক্ষমতা রয়েছে। তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আছে, কিছু ড্রোনও আছে।” এর পরেই তাঁর মন্তব্য, “শতকরা হিসাবে বললে, হয়তো তাদের হাতে ক্ষেপণাস্ত্রের ২১-২২ শতাংশ এখনও রয়েছে। সংখ্যার হিসাবে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র। কিন্তু আমরা যখন প্রথম আক্রমণ করেছিলাম তখন যত ছিল, এখন তত নয়।”

এর আগে মে মাসে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন ইরানের হাতে ১৮ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করে আসছেন যে আমেরিকার সামরিক অভিযান ইরানের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে গুরুতর ভাবে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে শুক্রবারও ওমান উপসাগরে অবস্থানরত দু’টি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের দিকে ‘সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র’ নিক্ষেপ করে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর দাবি এর ফলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলি এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টিকম)-ও ইরানের তরফে ‘প্রত্যাঘাতের’ কথা স্বীকার করেছে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল পেন্টাগন। একই দিনে ইরানে হামলা চালিয়েছিল ইজ়রায়েলি বিমানবহরও। সেই অভিযানের পোশাকি নাম ছিল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ বা ‘লায়নস রোর’। পাল্টা ইরানি সেনা পশ্চিম এশিয়ায় ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলির বিরুদ্ধে শুরু করে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’। ইরানের শীর্ষনেতা আয়াতোল্লা খামেনেই-সহ একাধিক প্রথম সারির সামরিক ও অসামরিক নেতার মৃত্যু হলেও নতিস্বীকার করেনি তারা। শেষপর্যন্ত সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দু’পক্ষ। এর পর দু’পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি অন্তর্বর্তিকালীন চুক্তির খসড়ায় বলা হয়, তেহরান আবার হরমুজ় প্রণালী খুলে দেবে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। কিন্তু ট্রাম্প এখনও চুক্তিটিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। এর ফলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement