Hawkers eviction

পার্ক সার্কাস স্টেশনে উচ্ছেদ, রুজির চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

শিয়ালদহ, হাওড়া, দমদম জংশন, যাদবপুরের পরে দক্ষিণ শহরতলির পার্ক সার্কাস স্টেশন। শনিবার রাতে বেআইনি দোকান তুলতে পার্ক সার্কাস স্টেশনে অভিযান চালান রেল কর্তৃপক্ষ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ০৭:১৩
Share:

উচ্ছেদের পরে শেষ সম্বলটুকু বার করে আনছেন এক প্রৌঢ়া। রবিবার, পার্ক সার্কাস স্টেশনে। ছবি: রণজিৎ নন্দী।

স্টেশনের এক পাশে সারি সারি দোমড়ানো মোচড়ানো দোকান। দোকানের আসবাব থেকে শুরু করে বিক্রির সামগ্রী, সবই ছড়িয়েছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। স্তূপীকৃত সেই ধ্বংসাবশেষ থেকে কোনও মতে ব্যবসার শেষ সম্বলটুকু খুঁজে বার করার চেষ্টা করেছেন অনেকেই। এ বার কী করবেন? জিনিস খুঁজতে ব্যস্ত প্রৌঢ়া বললেন, ‘‘সরকারই তো পথে বসিয়ে দিল। কোথায় আর যাব! পেট চালাতে আবার পথেই বসব।’’

শিয়ালদহ, হাওড়া, দমদম জংশন, যাদবপুরের পরে দক্ষিণ শহরতলির পার্ক সার্কাস স্টেশন। শনিবার রাতে বেআইনি দোকান তুলতে পার্ক সার্কাস স্টেশনে অভিযান চালান রেল কর্তৃপক্ষ। রাত ১১টা নাগাদ পুরো স্টেশন পুলিশ, আরপিএফ ঘিরে দিয়ে অভিযান চলে। মালগাড়িতে করে বুলডোজ়ার নিয়ে এসে পার্ক সার্কাস স্টেশনে একের পর এক বেআইনি দোকান ভেঙে, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। রেললাইনের পাশে যে দোকানগুলি ছিল, তা-ও ভেঙে দিয়ে মালগাড়িতে ভাঙা অংশ তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। মধ্যরাত পেরিয়েও অভিযান চলে।

নোটিস দেওয়া হলেও এ দিন উচ্ছেদ অভিযান চলার সময়ে দোকানের ভিতর থেকে জিনিসপত্র সরানোর সময়টুকু দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাধা দিতে গেলেও পুলিশের লাঠির সামনে পড়তে হয় বলে দাবি করেছেন তাঁরা। এক রাতেই উপার্জনের পথ হারিয়ে ভবিষ্যতের চিন্তায় ঘুম উড়েছে অধিকাংশ ব্যবসায়ীর।

রবিবার পার্ক সার্কাস স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল, প্ল্যাটফর্মে কোনও দোকানের অস্তিত্ব নেই। সবই তুলে দেওয়া হয়েছে। একই অবস্থা রেললাইনের পাশের সারি সারি দোকানগুলিরও।

রেললাইনের পাশেই কাপড়ের দোকান ছিল শেখ করিমের। এ দিন সেই ভাঙা দোকান সরাতে সরাতে বললেন, ‘‘বাড়িতে চার জন রয়েছে। এই দোকানের আয়েই চলত। এ বার কী ভাবে পেট চালাব জানি না।’’ কার্যত একই কথা শোনালেন পাশের চায়ের দোকান চালানো শহিদা বিবিও। তিনি জানালেন, ৪০ বছর ধরে দোকান রয়েছে তাঁর। তাঁর কথায়, ‘‘এক মাস আগে শুধু এক বার নোটিস দিয়ে গেল। কিন্তু কোথায় গিয়ে আমরা বসব, আমাদের কী হবে কিছুই বলল না। দোকান তো গেলই, সঙ্গে পুরো পরিবারটাকেও পথে বসিয়ে দিল।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন