KMC

অনুসন্ধান কমিটি যাবে ১২টি পুর এলাকায়, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

শুক্রবারের সিদ্ধান্তে বিধাননগর পুরসভা, রাজারহাট-নিউ টাউন এলাকা, পূজালি, বজবজ, রাজপুর-সোনারপুর, বারুইপুর, মহেশতলা, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরাহনগর, হাওড়া-বালি পুরসভার একাংশেও নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনগুলির নকশা খতিয়ে দেখা হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ০৭:২৪
Share:

শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

তারাতলা-কাণ্ডের পরে উচ্চ পর্যায়ের যে অনুসন্ধান কমিটি তৈরি করা হয়েছে, সেই কমিটি কলকাতা পুরসভা এলাকায় পর্যবেক্ষণ করবে বলে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত, এই কাজের পরিধি আরও বাড়ানো হবে। মোট ১২টি পুরসভা এলাকায় বাণিজ্যিক ভবনের নকশা, অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা এবং পরে জলাভূমির অডিটও করা হবে। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার উচ্চ পর্যায়ের ওই অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছিল রাজ্য সরকার। অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পাণ্ডের নেতৃত্বে ওইকমিটিতে রয়েছেন পুর সচিব খলিল আহমেদ, বিপর্যয় মোকাবিলা সচিব রাজেশ সিংহ, কলকাতার নগরপাল অজয় নন্দ, কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, শ্রমসচিব রচনা ভগত, পূর্ত দফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার, কলকাতা পুরসভার ডিজি (বিল্ডিং), দমকল বিভাগের ডিজি, এক জন মাটি বিশেষজ্ঞ, রাইটস-ইরকন এবং খড়্গপুর আইআইটি-র এক জন করে প্রতিনিধি। সরকার ঘোষণা করেছিল, ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই অডিট হবে।

শুক্রবারের সিদ্ধান্তে বিধাননগর পুরসভা, রাজারহাট-নিউ টাউন এলাকা, পূজালি, বজবজ, রাজপুর-সোনারপুর, বারুইপুর, মহেশতলা, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরাহনগর, হাওড়া-বালি পুরসভার একাংশেও নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনগুলির নকশা খতিয়ে দেখা হবে। বাদ থাকবে রেল, মেট্রো রেল, জাতীয় সড়ক, বন্দরের কাজগুলি। এ দিন পুর দফতরের সঙ্গে বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবনের নকশার পাশাপাশি বহুতলগুলির অগ্নি-নির্বাপণ অডিট এবং জলাভূমির অডিটও করাবে সরকার। তিনি বলেন, “কমিটি ৯০ দিনের আর একটি দায়িত্ব পেয়েছে। বহুতল এবং বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নি-নির্বাপণের অডিট হবে। গঙ্গার পাশে নির্মীয়মাণ যা রয়েছে, তা দেখা হবে। রেসিডেন্সিয়াল ভবনের ক্ষেত্রে ছ’তলা ধরা হবে। অবশ্য সেগুলির সংস্কার বা সম্প্রসারণের বিষয়টি এর মধ্যে পড়বে না। সোমবারের মধ‍্যে ওয়ার্ডগুলি ঠিক হয়ে যাবে। একটি বিধিও স্থির করে দেবে সরকার। আমরা জীবন বাঁচাতে চাই। সে ভাবেই কাজ হবে।”

নির্মাণ সংস্থাগুলির একাংশের বক্তব্য, অত দিন কাজ বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের সমস্যা হবে। এই প্রসঙ্গে সরকারের তরফে নির্মাণ সংস্থাগুলিকে বলা হয়েছে, যত দিন এই প্রক্রিয়া চলবে, তত দিন যেন শ্রমিকদের থাকা-খাওয়ার একটা বন্দোবস্ত করা হয়।

শুভেন্দু জানান, কমিটি তিনটি বিষয় দেখবে। যেগুলি একেবারে বিধি মেনে হয়নি, সেগুলি বাতিল হবে। যে সব নির্মাণের ক্ষেত্রে শুধু নকশা সংশোধন করলেই হবে, সেগুলির কথা জানিয়ে দেওয়া হবে। আর যে নির্মাণগুলির সব ঠিক আছে, সেগুলির ক্ষেত্রে কাজ চালাতে সমস্যা নেই। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সবটা আটকে রেখে এটা করা হবে না। এক-একটি যাচাই হলেই ক্লিয়ারেন্স হবে বা হবে না। নগরায়ণ আটকানো উদ্দেশ্য নয়। গার্ডেনরিচ, কসবা, তিলজলা হয়ে তারাতলা পর্যন্ত যে ঘটনাগুলি ঘটেছে, তাতে নিয়ন্ত্রণ দরকার। জীবনের অনেক দাম।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, তারাতলা-কাণ্ডের পরে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। লালবাজারের অপরাধ দমন শাখা কাজ করছে। ছ’জন গ্রেফতার হয়েছেন। তারাতলার ঘটনায় যারা নকশা এবং প্ল‍্যান করেছিল, তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কারণ, তারা কোনও রকম নজরদারি করেনি। শুভেন্দু বলেন, “ভবিষ্যতেও যারা এমন করবে, তাদের ক্ষেত্রেও সরকার এই পদক্ষেপ করবে। প্ল‍্যান পাশ করাতে ঘুষ বা চাপ দেওয়ার ঘটনা ঘটলে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা যাবে।”

অনুসন্ধান কমিটির সদস্যেরা এ দিন বিকেলে কলকাতা পুরভবনে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানান, অডিট শুরুর আগে শীঘ্রই পুরসভার তরফে ‘এসওপি’ তৈরি করা হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন